ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মন্দিরে চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গিয়ে উলটো দুই পুরোহিতকে চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। পরদিন স্থানীয় এক সালিশে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আহত করার অভিযোগে ওই দুই পুরোহিতকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পৌরসভার পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে পৌরসভার কামার গ্রামে অবস্থিত শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ জিউর নিত্য সেবা অঙ্গন আখড়াবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় পুরোহিতরা দুপুরের খাবার শেষে বিশ্রামে ছিলেন। এ সুযোগে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে রক্ষিত ১৫-১৬ কেজি কাঁসা-পিতলের থালা, বাটি, গ্লাস ও কলস একটি বাজারের ব্যাগে ভরে ভ্যানে করে পালিয়ে যায়। মন্দিরের পাশের এক নারী একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগ নিয়ে বের হতে দেখে বিষয়টি সেবায়তদের জানান। পরে মন্দিরের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সহকারী পুরোহিত সুমন কৃষ্ণ দাস ও সেবায়ত শান্ত বিশ্বাস সন্দেহভাজনদের খুঁজতে বের হন।

তাদের দাবি, বোয়ালমারী পৌর বাজারের কৃষি ব্যাংকসংলগ্ন এলাকায় ফুটেজে দেখা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে থামতে বললে তারা ভ্যানে করে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হলে তারা চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় রাজু নামে এক সন্দেহভাজন দেওয়ালের ওপর পড়ে মাথায় আঘাত পান। এরপর ভ্যান চুরির অভিযোগ তুলে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপস্থিত লোকজন দুই পুরোহিতের হাত পিছমোড়া করে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর শেখ আজিজুল হক ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পুরোহিতকে উদ্ধার করেন।

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো পক্ষ এ বিষয়ে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।