চট্টগ্রামে গুলিতে শেখ মোহাম্মদ আজাদ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। ইয়াবা সেবন করে নতুন কেনা পিস্তল দেখাতে গিয়ে হৃদয় নামের এক মাদক কারবারির ‘মিসফায়ারে’ সে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। বুধবার খুনের ঘটনার পর ইসহাক নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে এই দাবি করেছে। এ ঘটনায় আজাদের বাবা নুরুল রশিদ তিনজনের নাম উল্লেখসহ ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। পাঁচলাইশ থানা পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে-আজাদ, গুল্লু বাবু, ইসহাক ও হৃদয় পাঁচলাইশ থানার মুরাদপুর এলাকার পরিত্যক্ত একটি বাড়ির ভেতরে ইয়াবা সেবন করছিল। নিজের কাছে থাকা নতুন পিস্তল নাড়াচাড়া করে দেখাচ্ছিল হৃদয়। এ সময় অসাবধানতাবশত হঠাৎ গুলি বের হয়ে আজাদের শরীরে লাগলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আজাদ পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকার মওলানা আব্দুল হাকিম শাহ হুজুরের বাড়ির বাসিন্দা। সে একটি অ্যালুমিনিয়াম কারখানায় শ্রমিক হিসাবে কর্মরত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজাদসহ ওই চারজন পাঁচলাইশ থানাধীন ফরেস্ট গেট ও আশপাশের এলাকায় নানা অপরাধে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, বিক্রি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে গুল্লু বিদেশে পলাতক আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদের কর্মী হিসাবে পরিচিত। সে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার বিরুদ্ধেও নগরীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইসহাক দাবি করে, আজাদকে ইচ্ছা করে গুলি করা হয়নি। তার সঙ্গে কারও কোনো বিরোধও ছিল না। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকারী সন্ত্রাসী চক্রের বিষয়ে ইসহাক নানা তথ্য দিয়েছে। পুলিশ এখন সেসব তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে।

পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার যুগান্তরকে জানান, আজাদ গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আমাদের টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। ইসহাককে রিমান্ডে এনে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।