দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের পরোক্ষ আলোচনায় ‘অগ্রগতি হয়েছে’ বলে জানিয়েছে কাতার। বুধবার দুপক্ষের প্রতিনিধিরা কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে আগামী সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের পর দুপক্ষের আলোচনা ফের শুরু হবে। তবে এরই মধ্যে ইরান বলেছে, তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ বরদাশত করবে না।

ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের বিবৃতির বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার আলজাজিরা জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবশ্যই ইরানের নির্ধারিত সামুদ্রিক পথ ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় পরিণাম ভোগ করতে হবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী কঠোর ও তাৎক্ষণিক জবাব দেবে। হরমুজ আগ্রাসী যুক্তরাষ্ট্রের খেলার মাঠ নয়, বরং এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবিসংবাদিত সার্বভৌমত্বের আওতাধীন এলাকা।’

ফার্স নিউজ এজেন্সি ওই বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ইসলামি ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা অলঙ্ঘনীয় বিষয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সপরিবারে নিহত হন। ওইদিন মিনাব শহরে একটি স্কুলে বোমা ফেলে ১৬৮ শিশুকেও হত্যা করা হয়। এর জেরে পালটা হামলা শুরু করে ইরান; বন্ধ করে দেয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ। এ অবস্থায় এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আলজাজিরা জানিয়েছে, শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ইরানের নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজাকে কেন্দ্র করে আনুষ্ঠানিকতা। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানসহ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। জানাজা উপলক্ষ্যে রাজধানী তেহরান, কওম ও মাশাদ শহরে রয়েছে নানা আয়োজন। তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, ৯ জুলাই তাকে মাশাদে দাফন করা হবে।

জ্বালানি তেলের দাম কমছে : যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্ববাজারে কমছে জ্বালানি তেলের দাম। অয়েল প্রাইস ডটকমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল ৭০ দশমিক ৭৪ ডলার হয়েছে।

গাজায় হামলা চলাকালে ইইউ-ইসরাইলের বিপুল অর্থ লেনদেন : গাজা ও অধিকৃত পশ্চিমতীরে ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে লাভজনক সব চুক্তি সই করেছে।

স্টেটওয়াচের সংগৃহীত তথ্যের বরাত দিয়ে আলজাজিরা এ খবর জানায়। এতে বলা হয়, ইসরাইলের অন্যতম কড়া সমালোচক হওয়া সত্ত্বেও স্পেন ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মূল্যের ১৪টি চুক্তি করেছে। সামগ্রিকভাবে, তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়-ইইউর সদস্য দেশগুলোর সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইসরাইলি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রায় ৩১০ কোটি ডলার মূল্যের ১৯৪টি চুক্তি সই করেছে।

এ অর্থের সিংহভাগ-২৩ কোটি ৫০ লাখ এসেছে ২০২৪ সালের এপ্রিলে স্পেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসরাইলি কোম্পানি ‘রাফায়েল’র মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে, যা ছিল ‘আকাশপথে যুদ্ধের ব্যবস্থা’ সংক্রান্ত। এছাড়া স্পেনের পুলিশ বাহিনী ইসরায়েলি কোম্পানি ‘মারোম ডলফিন’র কাছ থেকে বুলেট-প্রতিরোধী ভেস্টও কিনেছে।