জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কাজের পরিধি ও নির্বাচনি এলাকা নিয়ে বিরোধী দল সমালোচনা করেছে। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সরকারের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন আখতার হোসেন। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বক্তব্য দেওয়ার সময় দুটি সংসদীয় আসনকে তার ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, ওই এলাকায় যাওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে এমন প্রচার চালানো হচ্ছে যে, নির্বাচিত মূল এমপি সেখানে বড় বিষয় নন, বরং সংরক্ষিত আসনের এমপিই সেখানকার সব কাজ পরিচালনা করবেন। একই বিষয়ে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর আগের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে দাবি করে আখতার হোসেন প্রশ্ন তোলেন, এই অতিরিক্ত দায়িত্বের সাংবিধানিক ভিত্তি এবং এর আওতা আসলে কতটুকু।
আরও পড়ুন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী / মডেল মসজিদ নির্মাণের ব্যয় তদন্তে আজই নির্দেশ দেওয়া হবে
শুধু বিরোধী দলের জেতা আসনগুলোতেই কেন এই ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি জানতে চান, এর মাধ্যমে দেশে কোনো ভিন্ন একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কি না। এই সামগ্রিক বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় সদস্যের এই গুরুতর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাঁড়িয়ে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্পষ্ট করেন। মন্ত্রী জানান, উত্থাপিত বিষয়টি আজ পয়েন্ট অব অর্ডার না হলেও এর একটি জরুরি এবং সঠিক ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।
সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, এই মহান জাতীয় সংসদ ৩০০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এবং এর অতিরিক্ত আরও ৫০ জন সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য নিয়ে সংসদ গঠিত হবে। ৩০০ আসনের ক্ষেত্রে ডিলিমিটেশন অ্যাক্ট বা সীমানা নির্ধারণ আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট আঞ্চলিক এলাকা বা সীমানা প্রযোজ্য হলেও সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে তা খাটবে না। সংরক্ষিত আসনে যারা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের নির্বাচনি এলাকা বা লিমিটেড এরিয়া হচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য যদি নিজের বক্তব্য দিয়ে নিজেকে নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ বা লিমিটেড করে ফেলেন, তবে তা মোটেও সঠিক নয়। তাদের বলা উচিত যে, তারা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য নির্বাচিত। আইন ও বিধি অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে যেসব সরকারি বরাদ্দ পান, তা তারা বাংলাদেশের যে কোনো স্থানে উপ-বরাদ্দ দিতে পারেন।
তিনি বলেন, দেশের যে কোনো অঞ্চলেই তারা এই বরাদ্দ বণ্টন করতে পারেন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে। দেশের সব অধিক্ষেত্রে তারা তাদের সংসদীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সুনির্দিষ্ট কোনো এলাকা বা দায়িত্বের যে কথা বলা হচ্ছে, তা সংবিধান বা আইন অনুযায়ী তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
এমওএস/এমকেআর








