জাতীয় সংসদে চলমান অধিবেশনে তিনটি বিল উত্থাপনের আগে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান একাধারে বেশ কিছু অভিযোগ তোলেন। সেই সঙ্গে পরিপূর্ণ সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে সরকার আংশিক সংস্কার করতে চাইছে, এমন অভিযোগ এনে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল।
বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনে রাত ৮টা ৬ মিনিটে ওয়াকআউট করে তারা।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আইন প্রণয়নের জন্য এখানে তিনটি বিল আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। দেশে নানা সমস্যা বিরাজ করছে। এসব নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশন ডাকার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু সেটার জবাব তিনি পাননি।
শফিকুর রহমান বলেন, আজকে আমাদের সামনে এখন তিনটা বিল এসেছে। সেগুলো আজকে অবশ্য আলোচনা হবে না, উত্থাপনের জন্য এসেছে। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে তার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, সংসদ নির্বাচন অনুযায়ী, এর ফলাফল অনুযায়ী সংসদ আহ্বান করা হয়েছে; কিন্তু গণভোটের জন্য সংস্কার পরিষদের সে সভা আহ্বান করা হয়নি।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, গণভোটের রায় মানাতো হয়নি, উল্টো ১৩৩টা অধ্যাদেশের মধ্যে ২০টা ল্যাপস করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন, স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন, পুলিশ সংস্কার কমিশন—এ মৌলিক বিষয়গুলো ছিল। যেগুলো ঠিক না হলে ফ্যাসিবাদ থেকে দেশ মুক্তি পাবে না।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘এখন আমরা দেখছি যে সেগুলো আস্তে আস্তে বিভিন্ন কায়দায় সরকারি দল এখানে নিয়ে আসছে।’
বৃহস্পতিবার সংসদে বেসরকারি দিবস উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আজকে এখানে যেভাবে সরকারি বিল উত্থাপন করা হচ্ছে, এটা বোধ হয় কোনো ভালো নজির হবে না। সংসদকে ঠেলে একতরফাভাবে, একপেশে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁরা নীতিগতভাবে এই ধরনের বিলে অংশ নিতে চান না।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা আশঙ্কা করছি যে এর মাধ্যমে সংস্কারের যে মূল দাবি, সেটাকেই চাপা দেওয়া হয়। তো আমরা সেই চাপা দেওয়ার পক্ষে নাই। আমরা সংস্কারের মূল দাবির পক্ষে জোরালো এবং স্পষ্ট অবস্থান আমাদের। আমরা এখান থেকে সরিনি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা পুরা সংস্কার চাই, আমরা গণভোটের বাস্তবায়ন চাই এবং আমরা এইভাবে খণ্ডিত কোনো প্রসেসের অংশ হতে চাই না, এইজন্য আমরা এখন আর এই আলোচনায় আমরা অংশগ্রহণ করব না। এই পর্বে আমরা সংসদ থেকে বিদায় নিচ্ছি। আমরা আবার ওয়াকআউট করছি।’
পরে বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিল তিনটি সংসদে তোলা হয়। এগুলো পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।








