আউটসোর্সিং, রাজস্ব অথবা দৈনিক ভিত্তিতে নিয়োগের দাবিতে সরকারি খাতে কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এআই টেকনিশিয়ানেরা। আজ মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরম খাঁ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ এ আই টেকনিশিয়ান কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আজাদ হোসেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. আজাদ হোসেন বলেন, পয়লা জুলাই, বুধবার থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন সংক্রান্ত সরকারী খাতে কৃত্রিম প্রজনন সেবা বন্ধ হতে যাচ্ছে।
আজাদ হোসেন অভিযোগ করেন, সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি খাতে কৃত্রিম প্রজনন সেবায় কর্মরত ৫২৭২ জনকে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অতীতের আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া হয়।
আজাদ বলেন, ‘প্রতিশ্রুত বিষয়টি আইনি জটিলতায় আটকে গেলে চূড়ান্ত আন্দোলন কর্মসূচি অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যাওয়া ব্যতীত ভিন্ন কোনও পথ আমাদের সামনে খোলা নেই।’
যে কোনো উপায়ে একটি মজুরি নির্ধারণ এবং সেটি বাস্তবায়ন দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সরকারি কাজে ফিরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সমিতির সভাপতি আজাদ বলেন, ‘একটি গাভী ২০ থেকে ৩০ লিটার পর্যন্ত দুধ দিচ্ছে, মাংস উৎপাদনে সয়ংসম্পূর্ণ দেশ। এর সিংহভাগ কৃতিত্বের দাবীদার আমরা। যারা সরকারী পর্যায়ে বিনা বেতনে ইউনিয়ন পর্যায়ে এই সেবাটি দিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ আন্দোলনের মুখে ২০১৬ সালে ৫০০ টাকা এবং ২০১৯ সালে দুই হাজার টাকা ভাতা আমাদের দেওয়া হতো। ২০২৪ সালের জুনে ৯ মাসের বকেয়া রেখে তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আমরা আগামীকাল ১ জুলাই থেকে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নসংক্রান্ত সরকারি কৃত্রিম প্রজনন সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখব। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
এক প্রশ্নের জবাবে মো. আলী জিন্নাহ বলেন, ‘আউটসোর্সিং হোক, রাজস্ব হোক অথবা দৈনিক ভিত্তিতে আমরা আমাদের নিয়োগ চাই। আমরা মজুরি চাই। মজুরি দিলে আমরা কাজে ফিরে যাব।’
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, কার্যকরী সদস্য মো. মাসুদ করিমসহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।








