সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে বেসরকারি খাত থেকে পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখতে চায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে একটি পরিপত্রের খসড়া করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে ‘নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো নাগরিককে’ প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যাবে।
সরকারি প্রকল্পে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পদটি তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
এমন পরিপ্রেক্ষিতে বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ করার সুযোগ রেখে তৈরি পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুমোদন পেলে জারি হতে পারে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরকারের উদ্যোগটি ভালো। এতে যোগ্যতাসম্পন্ন প্রকল্প পরিচালকের ঘাটতি দূর করার সুযোগ তৈরি হবে। এক ব্যক্তিকে একাধিক প্রকল্পের দায়িত্ব দিতে হবে না। কিন্তু সমস্যা হলো, এই সুযোগের অপব্যবহার হলে দলীয়করণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে আমলারা সরকারি এ উদ্যোগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এবং বেসরকারি ব্যক্তি প্রকল্প পরিচালক হলে অসহযোগিতার মুখে পড়তে পারেন। বেসরকারি খাতের কেউ সরকারি কাজের প্রক্রিয়া বুঝবেন কি না, সেটাও প্রশ্ন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উদ্যোগটি ভালো। তবে বেসরকারি খাত থেকে কাউকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিলে তাঁর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে কেমন ফলাফল আসে, তা দেখা যেতে পারে।
সরকারি প্রকল্পে সাধারণত সরকারি কর্মকর্তাদের পরিচালক নিয়োগ করা হয়। পদটি তাঁদের জন্য আকর্ষণীয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতা, ধীরগতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি, ধীরগতি
সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় এখন ১ হাজার ১৫০টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে অনুমোদনের জন্য ১ হাজার ২৭৭টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথভাবে এবং যথাসময়ে বাস্তবায়নের ওপর দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের সেবাপ্রাপ্তি নির্ভর করে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেনতেনভাবে প্রকল্প নেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে সময়ক্ষেপণের বহু অভিযোগ রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অর্থনীতি নিয়ে করা দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন কমিটির শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে এডিপির মাধ্যমে খরচ করা হয়েছে প্রায় ৭ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি মনে করে, এই টাকার ২৩ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় ও লুটপাট হয়েছে।
শুধু দুর্নীতির অভিযোগ নয়; বাংলাদেশে যথাসময়ে এবং নির্ধারিত ব্যয়ে প্রকল্প শেষ করা বিরল ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিশেষ করে অবকাঠামো প্রকল্প যথাসময়ে নির্ধারিত ব্যয়ে শেষ হলে সেটা বিশেষ খবর হিসেবে গণ্য হয়।
যেমন ২০১৯ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হওয়া ছিল একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। তা নিয়ে তখন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারউন্নয়ন প্রকল্পে গতি আনতে উদ্যোগটি ভালো। তবে বেসরকারি খাত থেকে কাউকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিলে তাঁর দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহি কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা স্পষ্ট থাকতে হবে। তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগটির মাধ্যমে কেমন ফলাফল আসে, তা দেখা যেতে পারে।বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) গত মে মাসে সরকারের চলমান ১ হাজার ৩৫২টি প্রকল্প নিয়ে একটি গবেষণা করে। এতে উঠে আসে, প্রায় ৫৫ শতাংশ (৭৩৭টি) প্রকল্পের মেয়াদ অন্তত একবার বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে দুবার বাড়ানো হয়েছে ২৩৪টি প্রকল্পের মেয়াদ। তিনবার বাড়ানো হয়েছে ৪৩টির। চারবার ছয়টির এবং পাঁচবার দুটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
১ হাজার ৩৫২টির মধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প এখনো সংশোধন হয়নি। তবে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিপিডি বলেছে, এগুলোর বেশির ভাগের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খরচও বাড়ে।
সিডিপির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রকল্প নিয়ে গবেষণাটি করেছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বেসরকারি খাত থেকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ করা যেতে পারে সেই সব বিশেষ প্রকল্পে, যেখানে বিশেষ জ্ঞানের দরকার হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিশেষ জ্ঞান আছে কি না, সেটাও দেখা জরুরি। তিনি বাড়তি কী করবেন, প্রকল্প দক্ষতার সঙ্গে এবং যথাসময়ে শেষ করার দিকে তাঁর বিশেষ আগ্রহ থাকবে কি না, সেটাও দেখার বিষয়।
তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকারি হোক, বেসরকারি হোক—প্রকল্প পরিচালকদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
১ হাজার ৩৫২টির মধ্যে ৬১৫টি প্রকল্প এখনো সংশোধন হয়নি। তবে সেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিপিডি বলেছে, এগুলোর বেশির ভাগের মেয়াদও বাড়ানো হতে পারে। মেয়াদের সঙ্গে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খরচও বাড়ে।
খসড়া পরিপত্রে কী আছে
মনে করা হয়, প্রকল্পে ধীরগতি ও দুর্নীতির ক্ষেত্রে বড় কারণগুলোর একটি হলো পরিচালকের অদক্ষতা ও সততার অভাব। এখন দুইভাবে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হয়। এক. বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকে। দুই. সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে থাকেন।
কারা পরিচালক হতে পারবেন, কারা পারবেন না, পরিচালকদের যোগ্যতা কী হবে—এসব বিষয়ে এখন নীতিমালা নেই। খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, ক্রয় কার্যক্রমে দক্ষ, অডিট বা নিরীক্ষা বিষয়ে অভিজ্ঞ, হিসাব ব্যবস্থাপনায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যেকোনো সরকারি ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে।
লিয়েনে (একজন সরকারি চাকরিজীবী নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িকভাবে অন্য সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ) থাকা কর্মকর্তাকেও পিডি নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিষয়ে যোগ্যতাসম্পন্ন বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক প্রকল্প পরিচালক পদে আবেদন করতে পারবেন।
নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা থাকলে সরকার তাঁকে চুক্তিভিত্তিক প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেবে। তবে দ্বৈত নাগরিক হলে তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ হবে সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে। এ জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি থাকবে। কমিটির সভাপতি হবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব।
নতুন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগে প্রথমে বাস্তবায়নকারী সংস্থা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহ্বান করবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সব শর্ত অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সরকারি কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।
কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন পরিকল্পনা বিভাগের একজন প্রতিনিধি, পরিকল্পনা কমিশনের একজন প্রতিনিধি, বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) একজন প্রতিনিধি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের প্রতিনিধি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রতিনিধি, প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রধান, পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের একজন প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের পরিকল্পনা অনুবিভাগের একজন প্রতিনিধি।
নতুন প্রকল্পে পরিচালক নিয়োগে প্রথমে বাস্তবায়নকারী সংস্থা জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে দরখাস্ত আহ্বান করবে। বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সব শর্ত অর্থাৎ শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্ম অভিজ্ঞতা, প্রকল্প বাস্তবায়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা, সরকারি কেনাকাটাসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিষয়ে উল্লেখ থাকবে।
আবেদন জমা পড়ার পর ১০ সদস্যের কমিটি তা যাচাই–বাছাই করে সাক্ষাৎকার নিয়ে তিনজন প্রকল্প পরিচালকের নাম সুপারিশ করবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী এ তিনজন থেকে একজন প্রকল্প পরিচালক চূড়ান্ত করবেন।
অবশ্য উপযুক্ত কাউকে পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পরিচালকের জন্য চাহিদাপত্র পাঠাবে। সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেবে।
খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের বেতনভাতা ও সম্মানীর একটি দাপ্তরিক প্রাক্কলন থাকবে। ৫০ কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্পের একজন পরিচালকের মাসিক বেতন হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ৫০ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রকল্প হলে পরিচালকের মাসিক বেতন হবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। তিনি নিজের আয়কর নিজেই দেবেন।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, কমিটির সুপারিশ ছাড়া এবং পদাধিকারবলে কোনো কর্মকর্তাকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া যাবে না। একজন কর্মকর্তাকে একটি প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া যাবে, একাধিক নয়। যেকোনো প্রকল্পের প্রশাসনিক অনুমোদনের পর এক মাসের মধ্যে পরিচালক নিয়োগ করতে হবে।
তিন মাস পরপর প্রকল্প পরিচালকের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন করা হবে এবং কার্যক্রম সন্তোষজনক না হলে তাঁকে অপসারণ করতে পারবে সরকার।
খসড়া পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রকল্প পরিচালকের বেতনভাতা ও সম্মানীর একটি দাপ্তরিক প্রাক্কলন থাকবে। ৫০ কোটি টাকার নিচে কোনো প্রকল্পের একজন পরিচালকের মাসিক বেতন হবে সাড়ে তিন লাখ টাকা। ৫০ কোটি টাকার ওপরে কোনো প্রকল্প হলে পরিচালকের মাসিক বেতন হবে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। তিনি নিজের আয়কর নিজেই দেবেন।
খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন এ পরিপত্রের ওপর একটি নীতিমালা তৈরি করা হবে। পরিপত্রটি জারি হলে অতীতে এ–সংক্রান্ত জারি করা সব নীতিমালা ও পরিপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
প্রকল্প পরিচালক কেন আকর্ষণীয় পদ
বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে নিয়োগ, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেকাংশে থাকে প্রকল্প পরিচালকের কাছে। কর্মকর্তাদের সামনে নিজ প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকে। ভালোভাবে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারলে কর্মকর্তার সুনাম বাড়ে। অন্যদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকের যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে ভাতাও পাওয়া যায়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জনপ্রশাসনে কিছু কিছু কর্মকর্তা আছেন, যাঁরা প্রকল্পে যেতে আগ্রহী নন। আবার অনেক কর্মকর্তা যেতে ব্যাপকভাবে আগ্রহী থাকেন। সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়। প্রকল্প পরিচালক নিজে যেমন দামি গাড়ি ব্যবহার করতে পারেন, তেমনি অনেক ক্ষেত্রে নিজের পরিবারের সদস্যদেরও প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিচালকেরা পদে থাকা এবং সুযোগ-সুবিধা বহাল রাখার জন্য ইচ্ছে করেই প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব করেন।
প্রশ্ন হলো, সরকারি কর্মকর্তারা কি বেসরকারি কাউকে প্রকল্প পরিচালক করার বিষয়টি মেনে নেবেন? এ বিষয়ে অন্তত চারজন আমলার সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনটি বিষয় সামনে এনেছেন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকই বেশি। বিভিন্ন দেশে এর চর্চা আছে। তবে নিয়োগ হতে হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যেন বেছে বেছে নিজেদের লোক নিয়োগ না হয়।প্রথমত, বেসরকারি ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী অথবা প্রভাবশালীরা নিজেদের পছন্দের এবং দলীয় কাউকে নিয়োগের চেষ্টা করবেন। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পে অনিয়ম করলে একজন সরকারি চাকরিজীবীকে জবাবদিহির মধ্যে আনা যায়। তাঁর অবসর সুবিধা আটকে যায়। বেসরকারির ক্ষেত্রে সেই সুযোগ থাকবে না। তৃতীয়ত, বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থায় বেসরকারি খাতের কেউ প্রকল্প পরিচালক হলে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পাবেন কি না, সে সন্দেহ রয়েছে।
এর পাল্টা যুক্তিও রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, দুর্নীতিবাজেরা অবসর সুবিধার চেয়ে অনেক বেশি অর্থ পেতে পারেন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে। অবসর সুবিধা আটকে যাওয়ার ভয়ে দুর্নীতি করবেন না, এ যুক্তি টেকে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনা যায়।
যোগ্য লোক নিয়োগ করা, দলীয় লোক নিয়োগ না করা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা—এসব নির্ভর করে সরকারের সদিচ্ছার ওপর।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের সুযোগ রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক দিকই বেশি। বিভিন্ন দেশে এর চর্চা আছে। তবে নিয়োগ হতে হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে। যেন বেছে বেছে নিজেদের লোক নিয়োগ না হয়।








