টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ৭৫ শতাংশ এলাকা পানিতে প্লাবিত। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়কও পানিতে ডুবে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাতকানিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে সাতকানিয়া-বাঁশখালী সড়কের বিভিন্ন এলাকা ডুবে থাকায় গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। সাতকানিয়া পৌরসভার অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ কার্যালয়, সাতকানিয়া পৌরসভা কার্যালয়, সাতকানিয়া আদালত, সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বিপণি বিতান ও দোকানে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে পশ্চিম ঢেমশার রামপুরসহ আশপাশের এলাকার বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন বীজতলা ও সবজি খেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুকুর ও মাছের খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ টাকার মাছ বেরিয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতকানিয়া পৌরসভার সতিপাড়া, ভোয়ালিয়াপাড়া, রামপুর, সামিয়ারপাড়া, চরপাড়া, ছমদরপাড়া এলাকার অধিকাংশ বসতবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। কেঁওচিয়া, বাজালিয়া, ছদাহাসহ আশপাশের এলাকার হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এলাকার গভীর নলকূপগুলো বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব দেখা দিয়েছে।
সাতকানিয়া পৌরসভার সতিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বন্যার পানি বসতঘরে ঢুকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। ২০২৩ সালের বন্যায়ও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। পর্যাপ্ত নালা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারছে না।’
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, বন্যাকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে আপাতত শুকনা খাবারসহ কিছু প্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা যাতে সর্বাত্মক সহযোগিতা পায়, তার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক মনিটরিং করে যাচ্ছে।








