মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের ভাষ্য, বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে প্রেমিক আফছার তাঁকে হত্যা করেছেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকার পল্লবী থেকে মো. আফছারকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ সোমবার বিকেল চারটায় মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ আগস্ট সকাল পৌনে ১১টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডাঙ্গী এলাকার নাহার গার্ডেনসংলগ্ন নির্জন স্থান থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহত লাইলী বেগম ঢাকার সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পাবনা সদর উপজেলায়।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, লাইলী বেগমের সঙ্গে আফছারের ১৮ বছরের সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পুলিশ বলছে, এ বিরোধের জেরে হত্যার পরিকল্পনা করেন আফছার।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুরে আফছার বাসা থেকে একটি ধারালো চাকু নিয়ে লাইলীকে সঙ্গে করে সাটুরিয়ার নয়াডাঙ্গী এলাকায় আসেন। ওই দিন রাত সাড়ে সাতটার দিকে নাহার গার্ডেনসংলগ্ন নির্জন স্থানে তাঁরা অবস্থান করেন।
সেখানে বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আফছার লাইলীর শাড়ির আঁচল গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে সঙ্গে থাকা চাকু দিয়ে তাঁর পেটে আঘাত করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করে তিনি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো ও উপপরিদর্শক মো. হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আফছারের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
পরে রোববার দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার পল্লবী থানার বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আফছারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদ্ঘাটন করে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মামলার অন্যান্য আইনি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।’








