প্রথমার্ধে কানাডার একাধিক সুযোগ তৈরি করে বার্তা দেয় মরক্কোকে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় আফ্রিকান দলটি। আজেদিন উনাহির জোড়া গোল ও অতিরিক্ত সময়ে সুফিয়ান রাহিমির গোলে বিশ্বকাপের অন্যতম স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ হারিয়ে সবার আগে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।

শনিবার (৪ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে দ্বিতীয়ার্ধের ৫০ ও ৮২ মিনিটে আজেদিন উনাহি গোল জোড়া গোল করেন। অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে সুফিয়ান রাহিমি কানাডাকে বিদায় করেন দলের তৃতীয় গোল করে। ফলে সবার আগে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো।

যদিও প্রথমার্ধে বল দখলে পিছিয়ে থাকার পরও দারুণ খেলে কানাডা। প্রথমার্ধে বল দখলে পিছিয়ে থাকার পরও ৩টি আক্রমণ করে দুটি লক্ষ্যে রাখে তারা। তবে মরক্কো মাত্র একটি আক্রমণ করতে সক্ষম হয় আর সেটিই অবশ্য লক্ষ্যে ছিলো।

পঞ্চম মিনিটে গোলের দারুণ সুযোগ নষ্ট করেন ডেভিড। লুক দে ফুজেরোলেসের দারুণ হেড থেকে বল পেয়ে একা এগিয়ে যান জোনাথন ডেভিড। মরক্কোর গোলরক্ষক বুনুকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করতে চাইলেও বাম হাত বাড়িয়ে অসাধারণ সেভ করেন মরক্কোর গোলরক্ষক।

১১ মিনিটে আবারও সুযোগ নষ্ট করে কানাডা। আলি আহমেদ মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে তা বাড়িয়ে দেন ওলুওয়াসেয়ির কাছে। হালহালকে কাটিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শট নেন তিনি, কিন্তু মরক্কোর গোলরক্ষক বুনু বাম পা বাড়িয়ে দুর্দান্ত সেভ করে দলকে নিশ্চিত গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান।

২১ মিনিটে ফর্মে থাকা মরক্কোর সাইবারি চোটে মাঠ ছাড়েন। মাঠে পড়ে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয় মরক্কোর এই ফরোয়ার্ডকে। শেষ পর্যন্ত আর খেলা চালিয়ে যেতে না পারায় তাকে তুলে নেওয়া হয়েছে। রাহিমি তার পরিবর্তে মাঠে নামেন।

২৯ মিনিটে প্রথমার্ধে মরক্কোর তাদের একমাত্র শটটি নেয় এবং লক্ষ্যে রাখে। শেষ তৃতীয়াংশে বল পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে শট নেন মরক্কোর এক খেলোয়াড়। তবে লুক দে ফুজেরোলেসের গায়ে লেগে বলের গতি অনেকটাই কমে যায়, ফলে গোলরক্ষকের জন্য সেটি সামলানো কঠিন হয়নি।

প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে না পারায় খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। তবে সুযোগ তৈরিতে এবারও এগিয়ে ছিলো কানাডা। কিন্তু সুযোগ হাতছাড়া করায় জেতা হয়নি ম্যাচ।

৫০ মিনিটে এগিয় যায় মরক্কো। দারুণ পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে আসে গোলটি। হাকিমি ফ্রি-কিকটি বক্সের ঠিক বাইরে থাকা উনাহির উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন। কোনো সময় নষ্ট না করে প্রথম স্পর্শেই নেওয়া উনাহির বাঁকানো শট জড়িয়ে যায় গোলের ডানদিকের নিচের কোণে। কানাডার গোলরক্ষকের কিছুই করার ছিল না।

৫৩ মিনিটে আরেকটি সুযোগ আসে মরক্কোর সামনে। ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যান আশরাফ হাকিমি। পথে আলি আহমেদকে পেছনে ফেলে বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে বাঁ দিকে কাট দেন। তবে ঠিক সেই মুহূর্তেই কানাডার এক ডিফেন্ডারের নিখুঁত ট্যাকলে বল হারান তিনি, ফলে সম্ভাবনাময় আক্রমণটি শেষ হয়ে যায়।

৫৯ মিনিটে টানা দুটি কর্নার পায় কানাডা। তবে মরক্কোর রক্ষণ দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে প্রতিবারই বিপদ সামলে দেয়। ফলে কর্নার থেকে পরিষ্কার কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কানাডা।

৬৪ মিনিটে দারুণ একটি আক্রমণ গড়ে তুলেছিল মরক্কো। উঁচু বল থেকে শেষ তৃতীয়াংশে ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে পৌঁছে যান ব্রাহিম দিয়াজ। বক্সে ঢুকে সতীর্থের জন্য কাটব্যাক দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, তবে কানাডার এক ডিফেন্ডার মাঝপথেই বল কেটে দিয়ে সম্ভাবনাময় আক্রমণটি থামিয়ে দেন।

৭৪ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠে কানাডা। তবে বম্বিতোর বাড়ানো পাসটি জনস্টনের জন্য বেশি লম্বা হয়ে যাওয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি তিনি। এতে আক্রমণটি ভেস্তে যায়।

৭৯ মিনিটে দূরপাল্লার শটে ভাগ্য পরীক্ষা করেন কানাডার বুকানান। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার শটটি বুনুর সামনে পড়ে হঠাৎ নিচে নামলেও মরক্কোর গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় বলটি ঠেলে কর্নারের বিনিময়ে বিপদমুক্ত করেন।

৮২ মিনিটে নিজেদের বক্স থেকে বল নিয়ে দারুণ দৌড় শুরু করেন তালবি। মাঝমাঠ পেরিয়ে তিনি ডান প্রান্তে থাকা ব্রাহিম দিয়াজের উদ্দেশে নিখুঁত থ্রু পাস বাড়ান। দিয়াজ বক্সে ঢুকে বল ঠেলে দেন আজেদিন উনাহির কাছে। একবার বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েই জোরালো শটে বল পাঠিয়ে দেন জালের ডান কোণে। চমৎকার এই পাল্টা আক্রমণ থেকে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি, আর মরক্কোও আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে যায়।

কানাডার কফিনে অতিরিক্ত সময়ের ৮ মিনিটে মারেন সুফিয়ান রাহিমি। তার গোলে ৩-০ গোলের লিড পায় শেষ মুহূর্তে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজের নিখুঁত মাপা পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান সুফিয়ান রহিমি। দৃষ্টিনন্দন দলীয় আক্রমণ থেকে আসে মরক্কোর আরেকটি গোল।

এই পারফরম্যান্সে ৩-০ ব্যবধানে জিতে কানাডাকে বিদায় করে প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে মরক্কো।

আইএন