কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এইউ ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুরাইয়া জান্নাত মাত্র আট মাসে নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার হাতের লেখা এতটাই নিখুঁত যে, এটি ছাপা নাকি, হাতে লেখা-তা সহজে বোঝার উপায় নেই। সুরাইয়ার বাড়ি উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামে। তিনি সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটনের মেয়ে। বৃহস্পতিবার বিকালে কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোগে তাকে সম্মাননা পদক ও স্মারক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সুরাইয়া জানান, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শাফায়াত লাভের আশায় তিনি এই কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, অন্যদের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করে ভালো কিছু করার ইচ্ছা থেকেই ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি কুরআন লেখা শুরু করি। মাদ্রাসার ক্লাস ও পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে লিখে আগস্টের শেষ দিকে কাজটি শেষ করতে সক্ষম হই। তিনি আরও জানান, পুরো কুরআন লিখতে তার প্রায় ৮ মাস সময় লেগেছে। এতে ১ হাজার ১২৯টি পৃষ্ঠা এবং প্রায় ৫২টি কলম ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবার লেখার আগে অজু করতেন এবং দরূদ শরিফ পাঠ করে লেখা শুরু করতেন। সুরাইয়ার ভাষ্য, তার ছোট ভাই নাহিদ হাসান, যিনি আবেদনগর দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তাকে এ কাজে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি হাদিসের বিখ্যাত গ্রন্থ সহিহ বুখারিও নিজ হাতে লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং দেশবাসীর কাছে দোয়া চান। সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়ের আরবি ভাষা ও সুন্দর হাতের লেখার প্রতি আগ্রহ ছিল। মেয়ের এ অসাধারণ অর্জনে খুশি হয়ে তার বাবা তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা বলেন, এ বয়সে ৩০ পারা পবিত্র কুরআন নিজ হাতে লিখে সুরাইয়া অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। তার হাতের লেখা সত্যিই ছাপা অক্ষরের মতো। তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি।








