খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তিনটি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট। এ ঘটনার পর ওই দিনই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শনে যান এবং দ্রুত হাসপাতালটি চালুর নির্দেশ দেন।
কিন্তু দেড়মাস অতিবাহিত হলেও গণপূর্তের সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় অপারেশন থিয়েটার চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে জরুরি অপারেশন সেবা চালু রাখা হয়েছে। ভর্তি রোগীদের মধ্য থেকে জরুরি রোগীদের সেবা প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
চলতি বছরের ২০ মে ভোরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিট সংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে স্টোররুমের বিভিন্ন সরঞ্জাম, কিছু সিলিন্ডার ও ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই অংশে ছিল তিনটি অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট-অপারেটিভ ইউনিট। ফলে হাসপাতালের নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

এ ঘটনার দিন খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পরিদর্শনে যান এবং দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত অংশের সংস্কার করে হাসপাতাল চালুর নির্দেশ দেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ১ মাস ১৫ দিন সময় অতিবাহিত হলেও এখনো ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন রুমগুলো চালু করতে পারেনি।
হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও অপারেশন থিয়েটার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ১৫০০-১৭০০ রোগী হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে। এর মধ্যে শত শত রোগী জরুরি অপারেশনের জন্য হাসপাতালে আসেন। দুর্ঘটনার রোগীও থাকে। তিনটি ওটির মধ্যে দুইটি ওটি মূলত সচল ছিল। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সে দুইটি ওটি বন্ধ থাকায় একটু চাপ তৈরি হয়েছে।
অনেক রোগী খুলনা বিভাগের অন্য জেলা থেকেও আসেন। হাসপাতালে অপারেশন সেবা পাওয়ার আশায় অনেক রোগী এসে ভর্তি থাকেন। অপারেশন সেবা দেওয়ার সক্ষমতার থেকে রোগীর চাপ অনেক হওয়ায় অনেক রোগীকে ৫-৭ দিন পর্যন্ত ভর্তি থাকতে হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডের পর ভর্তি রোগী এবং জরুরি রোগীদের দুই দিক মিলিয়ে জরুরি রোগীদের অপারেশনগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে।

খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তর-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ওটি এবং পোস্ট-অপারেটিভের কাজ শেষ হয়েছে। আর মালামাল থাকা রুমের মালামাল সরিয়ে নিতে সময় লেগেছে বলে কাজ শুরু করতে সময় লেগেছে। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে (৯ জুলাই) শতভাগ কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক কাজী আইনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অপারেশন থিয়েটারগুলো চালু হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বললে তারা আরও দুইদিন আগে জানান প্রায় সাতদিন সময় লাগবে। তবে চালু করার আগে আমাদের বন্ধ থাকা অপারেশন থিয়েটারগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ওটি বন্ধ থাকলেও আমরা চলমান ওটি দিয়ে জরুরি রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে হাসপাতালে আসা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।
আরিফুর রহমান/এফএ/এএসএম








