জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকায় বিচারকের ভাড়া বাসায় জানালার গ্রিল কেটে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা চুরির ঘটনায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক দুই নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে শহরের বিভিন্নস্থান থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে গ্রেফতারদের আদালতে পাঠিয়ে চারজনের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। গ্রেফতার একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণ করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল এবং বিচারক নুসরাত জেরিন জেনী জামালপুর শহরের আমলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় প্রায় সাত মাস ধরে বসবাস করছেন। তারা দুইজন জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের মেলান্দহ ও দেওয়ানগঞ্জ সিভিল জজ আদালতের বিচারক হিসেবে কর্মরত আছেন।
আরও পড়ুন
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় স্বর্ণালংকার-টাকা চুরি
গত ৩০ জুন বিকেলে বিচারক আহমাদুল কবির সাকিল তাঁর স্ত্রী বিচারক জেনীকে জামথল ঘাটে রেখে আসতে যান। পরে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি মূল দরজা খুলতে না পেরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে দেখা যায়, দুর্বৃত্তরা শয়নকক্ষের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আলমারির ড্রয়ার ভেঙে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ও হীরার আংটিসহ মোট ১৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে।
ঘটনার পরদিন বুধবার (১ জুলাই) জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম. ছরওয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাতে একই ভবনের অন্য বাসার গৃহকর্মী নিলুফাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বিচারকের বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতেই আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন- মেলান্দহ উপজেলার চর পলিশা গ্রামের নিলুফা (৩২), সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়া গ্রামের হাওয়া বেগম (৩০), শহরের আমলাপাড়া এলাকার চাঁন মিয়া ওরফে কালাচাঁন (৫০), গোলাপবাগ এলাকার সুমন মিয়া (৩৯) এবং কলেজ রোড এলাকার নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব (৩৯)।
এর মধ্যে সুমন মিয়া জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক ও নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক।
জামালপুর থানার ওসি (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। চুরির মূল পরিকল্পনা, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং চক্রের পলাতক সদস্যদের শনাক্ত করতে চার জনের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে গৃহকর্মী নিলুফা আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
জামালপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরুল করিম সুমন বলেন, 'গ্রেফতারকৃতরা গত কমিটির পদে থাকা নেতা। তারা বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ না।'
হৃদয় আহম্মেদ/এসজেডএইচ/জেআইএম








