জামালপুরের মাদারগঞ্জে দুই দিনে সেচঘর থেকে এক কিশোরী ও একটি দোকান থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত ব্যক্তিরা হলো রূপসী (১৫) ও সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী (৪৫)।
আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে এক কৃষক জমিতে সার দিতে গিয়ে একটি সেচঘরে রূপসীর মরদেহ দেখতে পান। উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের পূর্বপাড়া বৈশাখীগাড়ী আকন্দবাড়ি-সংলগ্ন একটি সেচঘরে লাশটি পাওয়া যায়।
নিহত রূপসী চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া গ্রামের সাইরুদ্দিনের মেয়ে।
নিহত কিশোরীর বাবা সাইরুদ্দিন জানান, তাঁর মেয়ের মোবাইল ফোনে মাঝেমধ্যে এক ছেলে ফোন করত। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মেয়ের ফোন বন্ধ করে দেন। পরে ফোনটি চালু করার পর একদিন অজ্ঞাত নম্বর থেকে এক যুবক ফোন করেন। ফোনে সাইরুদ্দিনের কণ্ঠ শুনে ওই যুবক কথা না বলে কল কেটে দেন। তিনি আরও জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে মেয়ের খোঁজ নিতে গিয়ে দেখতে পান, সে ঘরে নেই। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, মরদেহটির গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার জাঙ্গালিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় দোকানের ভেতর থেকে সামিউল ইসলাম ওরফে ফকির আলী নামের এক ভাঙারি ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত সামিউল ইসলাম ওই এলাকার মৃত হরমুজ আলীর ছেলে।
জানা গেছে, সামিউল ইসলাম রাতে দোকানেই থাকতেন এবং সেখানে রান্নাবান্না করে খেতেন। গত বুধবার রাতেও খাবার খেয়ে দোকানের ভেতর ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গতকাল সারা দিন দোকান বন্ধ থাকায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সামিউলের ভাই রিক্সন দোকানে গিয়ে ডাকাডাকি করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দোকানের তালা ভেঙে শাটার খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় দোকানের মেঝেতে সামিউল ইসলামের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশিস রায় জানান, পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।








