ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তার এই ঘোষণা বেশ আলোড়ন তুলেছে রাজনীতির মাঠে। এ নিয়ে এরই মধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
কিন্তু একদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খোদ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যক্রমও নিষিদ্ধের মতো প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ফিরতে পারার মতো পরিস্থিতি আদৌ কতটা রয়েছে, তা নিয়েও আছে নানা ধরনের আলোচনা।
বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ব্যাপক জনরোষের মুখে দেশ ছাড়তে হয়েছিল আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতাকে। দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার কোনো নজির নেই।
ফলে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক সমঝোতাই দলটির রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায় বলে মত তাদের।
এছাড়া শেখ হাসিনা যে সময়সীমা দিয়েছেন, তা আসতে এখনও আরও পাঁচ মাস বাকি।
ফলে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার এই দাবি অনেকের ভাষ্যমতে কেবলই ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’, নাকি আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে সক্রিয় করার কৌশল – তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
আরও পড়ুন
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণ করবো: রয়টার্সকে হাসিনা
শেখ হাসিনাকে আসিফ নজরুল / ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা কেন? এখনই ফিরে আসুন
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ফেরার ক্ষেত্রে সামগ্রিক পরিস্থিতি ‘সম্পূর্ণ বৈরি’। গত বছরের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
তার আগে একই বছরের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং এর সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে অধ্যাদেশ জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার।
নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদেও সেই অধ্যাদেশ অনুমোদন হয়। স্বাভাবিকভাবেই দেশের ভেতরে দলটির কার্যক্রম চালানো আইন অনুযায়ী সম্ভব নয়।
ফলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার মতো পরিস্থিতি কি আদৌ তৈরি হয়েছে?
মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু, ছবি: বিবিসি বাংলা
সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর মতে, ‘বিশেষ ধরনের রাজনৈতিক অভ্যুত্থানে’ ক্ষমতাচ্যুত হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই দেশের বাইরে। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় যেমন দলটির তৎপরতা চালানো সম্ভব নয়, একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে চলা মব বা দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলার দিকটি মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সম্পূর্ণ বৈরী’ বলেই মনে করছেন তিনি।
‘বর্তমান পরিস্থিতি আওয়ামী লীগের জন্য এবং শেখ হাসিনার ফেরার জন্য খুবই খুবই প্রতিকূল’, বলেন মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।
এছাড়া প্রায় দুই বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই এর সঙ্গে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মামলা ও গ্রেফতারের খবর এসেছে গণমাধ্যমে।
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনেই সেজদায় লুটিয়ে পড়লেন অনেকে
কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশের ভেতরে থাকা অনেক নেতাকর্মীই এখনও আত্মগোপনে রয়েছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় দলকে সক্রিয় করতে বের করা ঝটিকা মিছিল থেকেও আটক হয়েছেন অনেকে।
এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার দাবি আদৌ কতটা বাস্তব, উঠছে সে প্রশ্নও।
যদিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বির আহমেদ ‘শেখ হাসিনার ফেরা আর আওয়ামী লীগের ফেরা দুটা আলাদা জিনিস’ বলে মনে করেন।
অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ, ছবি: বিবিসি বাংলা
তিনি বলেন, আইন করে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করায় দলটিকে রাজনীতির মাঠে ফিরতে হলে আইনি মোকাবিলার মাধ্যমেই ফিরতে হবে। কিন্তু শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়।
ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে তাকে বিচারের আওতায় আনার দাবির বিষয়টি নিয়ে অনেক দিন ধরেই সরব বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
ফলে শেখ হাসিনা দেশে এলে তাকে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই বলেই মত অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের।
এছাড়া গণমাধ্যমে সরাসরি নিজেই ফেরার কথা জানানোর ‘অন্তর্নিহিত তাৎপর্য’ আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘দেশে ফেরার ক্ষেত্রে উনি হয়তো ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিকভাবে একটা চাপ হয়তো সরকারের ওপর ক্রিয়েট করতে পারেন।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি
দরকার সমঝোতার রাজনীতি
গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি বর্ষণসহ নানা কারণে জনরোষের মুখে পড়েছিলেন শেখ হাসিনা। অনেকের মতে, প্রাণ বাঁচাতে সেসময় দেশ ছাড়তে হয়েছিল শেখ হাসিনাকে।
দুই বছর পর এসে সেই পরিস্থিতির খুব বেশি পরিবর্তন হওয়ার কোনো উদাহরণ নেই। ফলে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, তার জোরালো ভিত্তি নেই বলেও মনে করছেন অনেকে।
তারা বলছেন, এমন প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সমঝোতাই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার একমাত্র উপায়। কিন্তু তা করতে হলে যে উপায়ে দলটির নেতাকর্মীদের এগোতে হবে, তার একেবারে ভিন্ন দিকে তারা হাঁটছেন বলেই মত বিশ্লেষকদের।
জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি সরাসরি দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে করেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ, যার একটি আওয়ামী লীগপন্থি আর অন্যটি আওয়ামী লীগবিরোধী।
আরও পড়ুন
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী / হাসিনাসহ পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়া চলমান
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যা বললেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দীলিপ ঘোষ
‘পুরো এন্টি আওয়ামী লীগ গ্রুপটা আওয়ামী লীগকে ফেরত চায় না। এখন তাদেরকে তো আপনার চাওয়াইতে হবে। আপনি ফিরতে হলে তো এদের সাথে থাকতে হবে। তারা যদি আপনাকে দাঁড়াইতে না দেয়, তাহলে আপনি কীভাবে আসবেন? কীভাবে আপনি রাজনীতি করবেন?’, বলছিলেন অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ।
এছাড়া বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ৩০ শতাংশ অনুগত সমর্থক আছে বলে ধরে নিলেও বাকি ৭০ শতাংশ তাদের বিরুদ্ধে আছে। ফলে ‘অস্তিত্ব সংকটে’ থাকায় সেই ৩০ শতাংশ এই মুহূর্তে একত্রিত হয়েও শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পারার বাস্তবতা নেই বলে মনে করেন এই রাজনীতি বিশ্লেষক।
অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘স্বাভাবিক রাজনীতিতে ফিরতে হলে সমঝোতার রাজনীতিতে আসতে হবে। কিন্তু কখন কীভাবে সেই রাজনীতিটা হবে, সেটা সময় বলে দেবে।’
অবশ্য আছে ভিন্নমতও। রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু বলছেন, শেখ হাসিনার ফিরতে চাওয়ার পরিকল্পনা তার ‘রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ’।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ছবি
‘সবকিছু অনুকূল হয়ে যাবে, প্রস্তুত হয়ে যাবে, তারপর আন্দোলন হবে- তা নয়। আন্দোলন তো ধারাবাহিক। তিনি যদি এই ডিসেম্বরে না আসতে পারেন, পরিস্থিতি হয়তো এমন হলো যে তিনি আসতে পারলেন না, তিনি আরেকটা তারিখ দিলেন, সেটাও হচ্ছে আন্দোলনের ধারাবাহিকতা’, বলছিলেন মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জু।
এমনকি গত দুই বছরে মুক্তিযুদ্ধের ওপর যেভাবে আঘাত এসেছে, সেখান থেকে জনসাধারণের অনেকের মধ্যেই শেখ হাসিনার যেসব রাজনৈতিক ভুল ছিল, সেগুলোর গুরুত্ব কমে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যেতে হবে আইনি পন্থায়
শেখ হাসিনার ফেরার পরিকল্পনা গণমাধ্যমে আসার পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
আরও পড়ুন
শেখ হাসিনা কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য: নাহিদ ইসলাম
শিবির সভাপতি / শেখ হাসিনার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করা হচ্ছে
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমি মনে করি না এটা গুরুত্বপূর্ণ কিছু। এটা মূলত একটা প্রোপাগান্ডার অংশ। শেখ হাসিনা যদি, দেশে ফিরে কেবল ফিরবে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’
এদিকে শেখ হাসিনা ‘আসছেন না, আসতে পারবেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারাদেশে ৬৬৩টি মামলা হয়েছে। এরমধ্যে কেবল হত্যা মামলাই হয়েছে ৪৫৩টি, যার একটিতে তাকে দেওয়া হয়েছে মৃত্যুদণ্ডাদেশ।
ফলে আইনত আওয়ামী লীগের এই নেতা দেশে ফেরা মাত্রই গ্রেফতার হবেন।
হাসিনা ফিরলে তাকে জেলে যেতে হবে: চিফ প্রসিকিউটর
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকায় তিনি দেশে ফেরামাত্রই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় থাকায় তিনি দেশে ফেরামাত্রই গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
গত রোববার (১২ জুলাই) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে। এখন প্রশ্নটা হচ্ছে, তিনি যদি ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকেন তাহলে তো তিনি নিজে নিজে আসার কোনো সুযোগ নাই। হয় প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তির আওতায় তাকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে অথবা তাকে পুশব্যাক করবে। আর শেখ হাসিনা (রয়টার্সে) যেটা বলছেন, তিনি এবং তার দলীয় নেতাকর্মীরা একত্রে এসে আত্মসমর্পণ করবেন, এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নাই। কারণ তিনি তো এখন তার নিয়ন্ত্রণে নেই। তিনি তো স্বাধীন নেই অথবা তিনি আত্মগোপনে নেই।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, আমাদের কাছে মনে হয় তার বক্তব্য বাংলাদেশে তার নেতাকর্মীদের কোনোভাবে একটু উজ্জীবিত রাখা কিংবা একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা ছাড়া অন্য কোনো কারণ নাই।
আরও পড়ুন
সোহেল তাজ / একজন মানুষের ইগো যে দেশ-দলকে ধ্বংস করতে পারে তার প্রমাণ শেখ হাসিনা
যুবদল নেতা নয়ন / গুপ্তদের বলছি— হাসিনাকে তাড়িয়েছি, প্রয়োজনে আবার বাঁশের লাঠি হাতে নেবো
মোজাম্মেল হোসেন মঞ্জুর মতে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে অতি দ্রুত বিচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে আন্তর্জাতিক মহলেও গ্রহণযোগ্য হয়নি। একই সঙ্গে এই আদালতকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে শেখ হাসিনা যে চ্যালেঞ্জ করেছেন, সেই প্রশ্ন আন্তর্জাতিকভাবেও আছে।
অন্যদিকে অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরার পর প্রথমেই তাকে আইনি লড়াইয়ে যেতে হবে।
‘দলের নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে মামলা করতে হবে। এই মুহূর্তে সরকারতো ওই উদ্যোগে যাবেই না। তাকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আমার মনে হয় না’, বলেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
এমএমএআর








