লস অ্যাঞ্জেলেসের মাঠে বৃহস্পতিবার সকালে দাপট দেখাল যুক্তরাষ্ট্র। ম্যাচ জুড়ে বসনিয়া তাদের তাড়া করে গেল। কিন্তু ১০ জনের যুক্তরাষ্ট্রকে হারাতে পারল না তারা। বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় পৌঁছে গেল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। মেক্সিকো ও কানাডার পর বিশ্বকাপের তৃতীয় আয়োজক দেশও উঠল শেষ ষোলোয়।

প্রথমবার বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা বসনিয়া যে রক্ষণ সামলে আক্রমণে ওঠার পরিকল্পনা করবে তা ভালোভাবে জানতেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্জেন্টাইন কোচ মরিচিসও পচেত্তিনো। ফলে শুরু থেকেই তিনি আক্রমণের পথে গেলেন। শুরুতে ফ্লোরিয়ান বালোগানের গোল অল্পের জন্য অফসাইডে বাতিল হয়। প্রথম গোল বাতিল হলেও যুক্তরাষ্ট্রের খেলা দেখে বোঝা যাচ্ছিল, যে কোনো মুহূর্তে গোল করবে তারা।

প্রথমার্ধের শেষদিকে বসনিয়ার রক্ষণের ভুলে বল পেলেন বালোগান। ঘাড়ের কাছে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে নিয়ে গোল করলেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার তৃতীয় গোল। স্টেডিয়ামের ৬৬ হাজার দর্শকের মধ্যে ৬০ হাজারই স্বাগতিক দলের সমর্থক ছিলেন। তাদের চিৎকারে তখন কান পাতা দায়।

৬৪ মিনিটে সেই বালোগানই দলকে প্রায় ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পায়ে বাজে ট্যাকল করেন তিনি। রিপ্লে দেখে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপের নকআউটে গোল ও লাল কার্ড, এই কীর্তি এর আগে ছিল শুধু তিন কিংবদন্তি গারিঞ্চা, রোনালদিনহো ও জিনেদিন জিদানের। তবে বালোগানের ভাগ্য ভালো। তার দল হারলে সব আঙুল বালোগানের দিকেই উঠত।

১০ জনের যুক্তরাষ্ট্রকে চেপে ধরেছিল বসনিয়া। কিন্তু গোলের মুখ খুলতে পারেনি। সেই সময় মাঝমাঠে খেলোয়াড় বাড়ান পচেত্তিনো। তিনি জানতেন, বেশিক্ষণ এই চাপ সামলানো যাবে না। পালটা আক্রমণ করতে হবে। কোচের পরিকল্পনা কাজে লাগে। ৮২ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন টিলম্যান। ২০০২ সালের পর আবার বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো ম্যাচ জিতল যুক্তরাষ্ট্র। শেষ ষোলোয় তাদের সামনে বেলজিয়াম।