গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফকির মজনু শাহ সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া এক তরুণীকে স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক সহযোগিতা ও এক যুবকের সাহসিকতায় জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার কারণ জানতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলার ফকির মজনু শাহ সেতুতে এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেতু থেকে তরুণীর নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর আশপাশে থাকা লোকজন চিৎকার শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল ব্যাপারী। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখতে পান, তরুণীটি নদীর পানিতে ভেসে থেকে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। সময় নষ্ট না করে একটি নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে তিনি তরুণীকে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।

উদ্ধারকারী রাসেল ব্যাপারী বলেন, ‘‘এলাকাবাসী ও শিশুদের চিৎকার শুনে আমার ঘুম ভেঙে যায়। নদীর পাড়ে গিয়ে দেখি, একটি মেয়ে পানিতে ভেসে যাচ্ছে এবং বাঁচার চেষ্টা করছে। তখন আর দেরি না করে নৌকা নিয়ে নদীতে নেমে তাকে উদ্ধার করি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’’ 

কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তানভীর আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীকে হাসপাতালে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হবে।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, উদ্ধার হওয়া তরুণীর নাম আন্নি। তিনি কাপাসিয়া উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ডেফুলিয়া গ্রামের আনিসের মেয়ে। নদী থেকে উদ্ধারের পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং কী কারণে তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।