প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। একটি গাছ যেমন ধীরে ধীরে বড় হয়, তেমনই গাছের পরিচর্যা করতে করতে মানুষও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সোমবার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দেশের প্রায় ২৯ হাজার মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজ যে গাছটি লাগাবে, সেটি যেমন বড় হবে, তেমনই তোমরাও বড় হবে। একসময় সেই গাছকে নিজের বন্ধুর মতো মনে হবে।’ তিনি পরামর্শ দেন, পরিবারের নতুন কোনো সদস্য জন্ম নিলে তার নামে একটি গাছ লাগানো যেতে পারে। এতে সন্তান ও গাছ-দুটিই একসঙ্গে বেড়ে উঠবে। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে নিমগাছের চারা পাঠানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেই চারাগুলো থেকেই বর্তমানে আরাফাতের ময়দানে অসংখ্য নিমগাছ ছায়া দিচ্ছে।
লিখিত বক্তব্যের পরিবর্তে নিজের ভাবনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও খেলাধুলার সাম্প্রতিক প্রদর্শনী দেখে তিনি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আরও আশাবাদী হয়েছেন। তরুণদের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস ও সম্ভাবনাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকার এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের সমান গুরুত্ব থাকবে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কেউ বিজ্ঞানী, কেউ প্রকৌশলী, কেউ শিল্পী কিংবা আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদ হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের অন্তত একটি বিদেশি ভাষা শেখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশি ভাষাজ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি জানান, দেশের প্রায় ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে প্রায় ৯০ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার দায়িত্বও সবার। যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা এবং অন্যদেরও সচেতন করার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, সততা ও সৃজনশীলতা বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি স্বীকার করেন, শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে এবং সরকার ধীরে ধীরে সেগুলোর সমাধানে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবেশ-সচেতন, উদ্ভাবনী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই দেশের সব মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এবং ক্রীড়া কার্যক্রমকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, মাউশির ডিজি ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।








