সিলেট নগরীর বাসাবাড়িতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে তিনগুণ বেড়েছে। ২০২৫ সালে এ নগরীতে লার্ভা পাওয়ার হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ, এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশে। শুধু সাধারণ ঘরবাড়িই নয়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও অভিজাত এলাকাতেও এই লার্ভা মিলেছে। এতে নগরবাসীর মধ্যে হামের পাশাপাশি নতুন করে ডেঙ্গু আতঙ্গ ছড়িয়েছে। এর মধ্যে নগরীজুড়ে বিশেষ লার্ভা অনুসন্ধান জোরদার করা হয়েছে।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জরিপ নয়, বরং লার্ভা ধ্বংসের লক্ষ্যে সরাসরি অনুসন্ধান। আগামী তিন মাস এটি অব্যাহত থাকবে। মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, নগরীর ২ হাজার ৩০০টি বাসাবাড়িতে অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। ১৮২টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করা হয়েছে, যা মোট সার্চকৃত বাড়ির প্রায় ৮ শতাংশ। উদ্ধারকৃত লার্ভার সিংহভাগই মিলছে প্লাস্টিক ড্রাম, পানির বালতি, ফুলের টব, টবের নিচের ট্র্রে, ডাবের খোসা এবং ভাঙা বাসনকোসনে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে। তিনি জানান, যেখানেই লার্ভা মিলছে সেখানেই তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লার্ভা ও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু অভিযান নয়, এ মুহূর্তে নগরবাসীর সচেতনতা জরুরি।
এর আগে ২০২৫ সালে নগরীর ১৮ হাজার ৯১০টি বাসাবাড়িতে অনুসন্ধান চালিয়ে ৫৬৮টি বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গিয়েছিল, যা ছিল সার্চকৃত বাড়ির প্রায় ৩ শতাংশ। এদিকে সিসিকের ছিটানো ওষুধের মান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিলেও কর্তৃপক্ষের দাবি, ওষুধের মান নয় বরং ছিটানোর প্রক্রিয়া ও তীব্র জনবল সংকটের কারণেই মূলত কার্যকারিতা হারাচ্ছে ওষুধ।
সিসিকের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ লাখ মানুষের সুরক্ষায় মশক নিধনে নিয়োজিত আছেন ৪০ জন কর্মী। দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীদের মশক নিধনে তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও সিসিকের দাবি, মাঠে নামানোর আগে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অপর্যাপ্ত লোকবলের কারণে সবকটি ওয়ার্ডে একযোগে অভিযান চালানোও সম্ভব হচ্ছে না। তবে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী দাবি করেন, নগরীর প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৫ জন করে জনবল নিয়োজিত আছেন। জনসচেতনতার জন্য বাড়ি বাড়ি লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, প্রতিবছর সিটি করপোরেশনের বাজেটে এডিস লার্ভা ধ্বংসের জন্য বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তারা মশক নিধন কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ করেছে। ৪ হাজার লিটার টেমেফস (লার্ভিসাইড) ও ম্যালাথিয়ন কেনা হলেও মাঠপর্যায়ে স্থায়ী মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মী অনেক কম। আগামীতে এই কাজে বাজেট বরাদ্দ ও জনবল বৃদ্ধির দাবি সচেতন মহলের।








