দেশের অর্থনীতিকে টেকসই ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে শিল্পখাতের উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, “শিল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধান করা হচ্ছে।”
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং সৌদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “শিল্পখাতের বিকাশ ছাড়া দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে না। এ কারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত সংলাপ অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে বিটিএমএর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয়ে তাৎক্ষণিক সমাধান হয়েছে, আর বাকি বিষয়গুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।”
তিনি বলেন, “সরকার চায় দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আরো প্রতিযোগিতামূলক হোক। কারণ ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় অংশই শিল্পখাতের ওপর নির্ভর করবে।”
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ব্যবসা পরিচালনা সহজ করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডি-রেগুলেশন) করা হয়েছে। এরপরও যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন, ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং বিকল্প অর্থায়নের সম্ভাবনাও আলোচনায় এসেছে।
তিনি বলেন, “সরকারের অর্থায়ন কাঠামোয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রচলিত উৎসের পাশাপাশি নতুন অর্থায়নের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”
নতুন বাজেট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে হাস্যরসের সঙ্গে বলেন, “বাজেট কেমন হয়েছে, সেটা আপনারাই বলবেন। আমি কীভাবে বলব?”
রাজস্ব আদায় প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “চলতি অর্থবছরে সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।” তার ভাষায়, “এনবিআর পুরোপুরি প্রস্তুত। ইনশাআল্লাহ রাজস্ব আদায় ভালো হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করা যাবে।”
রাজস্ব আদায় তদারকিতে গঠিত টাস্কফোর্সের কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।








