মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে আন্তর্জাতিক মানের ইকো কনটেইনার পোর্ট নির্মাণের ঘোষণা দেয়ার এক বছর পার হলেও প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। প্রকল্প অনুমোদন বা দরপত্র আহ্বানের মতো মৌলিক প্রশাসনিক পদক্ষেপও শুরু হয়নি। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়া ঘাটের আগের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেকটাই কমে গেছে। এই বাস্তবতায় এলাকাটির নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরির লক্ষ্যেই ২০২৫ সালের জুনে ৭৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ইকো কনটেইনার পোর্ট নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর সঙ্গে রিভার মিউজিয়াম, ইকো রিসোর্ট, পার্ক এবং পুরোনো ফেরিঘাটের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনাও ছিল। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, বাণিজ্য ও পর্যটনের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারত। কিন্তু এক বছর পরও প্রকল্পটি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা ক্রমেই হতাশায় পরিণত হচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঘোষণা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে সেটিই শেষ কথা নয়। ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া এগিয়ে না গেলে উন্নয়ন পরিকল্পনা তার গতি হারায়। এতে স্থানীয় মানুষের আস্থা কমে। বিনিয়োগের সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশ্য বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই, নকশা, পরিবেশগত মূল্যায়ন ও অর্থায়নের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবে এসব প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কেও যদি কোনো স্বচ্ছ তথ্য না থাকে, তাহলে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি থাকা ইতিবাচক। কিন্তু সেই পরিকল্পনার বাস্তবায়নও একইভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর উচিত প্রকল্পটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া। যদি কোনো প্রশাসনিক, আর্থিক বা কারিগরি জটিলতা থাকে, সেটিও খোলামেলাভাবে জানানো প্রয়োজন। উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হলে জনআস্থাও বাড়ে।
রাজনীতি
শিমুলিয়া ঘাটে ইকো কনটেইনার পোর্ট কবে হবে

শেয়ার করুন







