নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে চলার পথে উত্ত্যক্ত ও লাথি মারার ভিডিও সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তেন বলে জানা গেছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে বখাটের দ্বারা নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) দুপুরের পর থেকে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত বখাটের যথাযথ শাস্তির দাবি তোলেন জনতা।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, শীতলক্ষ্যা নদীর ওয়াকওয়ে দিয়ে বিদ্যালয়ের পোশাক পরিহিত তানিসা আক্তার ও মিম আক্তার নামের দুই শিক্ষার্থী হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ওয়াকওয়েতে থাকা বখাটে এক কিশোর পেছন থেকে দুই শিক্ষার্থীর একজনকে সজোরে লাথি মারে।
আরও পড়ুন
স্কুলছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, শিক্ষক বরখাস্ত
বখাটের লাথির প্রতিবাদ করায় ওই শিক্ষার্থীকে পেছন থেকে আবারও লাথি মারে। এমন অমানবিক ঘটনাটির ভিডিও কেউ একজন তার মুঠোফোনে ধারণ করেন। ধারণ করা ভিডিওটি বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। এরপর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
বখাটের দ্বারা নির্যাতিত মেয়েটি কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া এলাকার শাহীন মিয়ার ছেলে আর অভিযুক্ত কিশোরের নাম দিলসাদ হোসেন। সে কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খানের বাড়ির ভাড়াটিয়া রিকশাচালক সাফিউল ইসলামের ছেলে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এক মাস আগে কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিসা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মিম আক্তার কাঁচপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ের ওয়াকওয়ের পাশে হাঁটতে যান। এ সময় দিলশাদ হোসেন পেছন থেকে তানিসাকে পরপর দুইবার লাথি মারেন। ছেলেটির সঙ্গে কেউ একজন সেটি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। গত বৃহস্পতিবার সেটি সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্ত ওই কিশোরকে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে কান ধরে উঠবস করানোর আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ওই ছেলেকে বলতে শোনা যায়, ‘একটি মেয়েকে আমি লাথি মেরেছি, সেই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেজন্য আমি মাফ চাচ্ছি। এই ভুল আমার দ্বারা আর হবে না, আমি কাঁচপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছি।’
এ বিষয়ে স্কুলছাত্রীর বাবা শাহীন মিয়া বলেন, আমার মেয়েকে লাথি মারার ভাইরাল ভিডিওটি আরও এক মাস আগের। স্কুল চলাকালীন বাইরে ঘোরাফেরা করায় স্কুলের স্যাররা বিচার করে আমার মেয়ে তানিসাকে টিসি দিয়ে বের করে দিয়েছে। তবে বখাটে ছেলেকে কি বিচার করেছে তা আমার জানা নেই।
তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ। অল্প উপার্জনে কর্ম করে খাই। এখন এই স্কুলে পড়তে পারবে না। মেয়েকে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে হবে।
কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, স্কুল কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই দুই স্কুল ছাত্রীকে টিসি দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ঘটনাটি স্কুলের বাইরে তাই স্থানীয় লোকজন ছেলে ও ছাত্রীদের বিচার করেছে।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ভাইরাল ভিডিও আমাদের নজরে এসেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
MDAKASH
মো. আকাশ/এমআরএম







