ভুলে যাওয়ার প্রবণতা কিংবা মনোযোগের অভাব আধুনিক জীবনের একটি বড় সমস্যা। তবে কৃত্রিম কোনো ওষুধ ছাড়াই শুধু দৈনন্দিন জীবনযাত্রা আর খাদ্যাভ্যাসে কিছু পরিবর্তন এনেই স্মৃতিশক্তি প্রখর করা সম্ভব। সচেতনভাবে এই অভ্যাসগুলো প্রতিদিনের রুটিনে জড়িয়ে নিলে দীর্ঘকাল ধরে মস্তিষ্কের তীক্ষ্ণতা বজায় রাখা সম্ভব।
শুরুতে অতিরিক্ত চিনি বর্জন করতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসের ক্ষতি করে। আর এটি স্মৃতির সঙ্গে জড়িত। এমনকি ৫০ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ওপর মাত্র ১০ দিনের একটি পরীক্ষায়ও অতিরিক্ত চিনির নেতিবাচক প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রক্রিয়াজাত বা রিফাইন্ড খাবারের অভ্যাস অনেক বেড়ে গেছে। এসব শর্করা-সমৃদ্ধ পশ্চিমা খাবার মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমায় এবং আলঝেইমার্সের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। আর প্রদাহরোধী খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি ৩১ শতাংশ কমে এবং মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটার বা ধূসর উপাদান বাড়ে। হলুদ অথবা কারকিউমিন মস্তিষ্কের প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ ক্ষতি কমায় এবং ক্ষতিকর অ্যামাইলয়েড প্লাক জমতে বাধা দেয়। এটি স্মৃতিভ্রম রোধ করে। ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকো সমৃদ্ধ ডার্ক চকলেট মস্তিষ্কে রক্তসঞ্চালন এবং কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ ফিশ অয়েল সাপ্লিমেন্ট বয়স্কদের ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়।
পর্যাপ্ত ঘুম: স্মৃতি দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য ঘুম পালন করে অপরিহার্য ভূমিকা। সিডিসির মতে, প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের প্রতি রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত স্থূলতা কিংবা মেদ স্মৃতিশক্তি দ্রুত কমিয়ে দেয় এবং আলঝেইমার্সের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
ভিটামিন ডি পরীক্ষা: শরীরে ভিটামিন ডি-এর অভাব মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমাতে পারে। তবে সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ডি-এর লেভেল পরীক্ষা করা উচিত।
নিয়মিত মেডিটেশন মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটার বাড়িয়ে দেয় এবং শিক্ষার্থীদের শর্ট-টার্ম মেমোরি উন্নত করে তোলে। বর্তমান মুহূর্তে ফোকাস করার অভ্যাস বা মাইন্ডফুলনেসও মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া সুডোকু, ক্রসওয়ার্ড অথবা টেট্রিসের মতো গেমগুলো
বয়স্ক ব্যক্তিদের ওয়ার্কিং মেমোরি সচল রাখে। নিয়মিত ব্যায়াম ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে ফুটবল কিংবা বাস্কেটবলের মতো ওপেন-স্কিলড ব্যায়াম অর্থাৎ যেগুলো সাধারণত পরিবর্তনশীল পরিবেশে খেলতে হয়। এই ধরনের খেলা মস্তিষ্কের জন্য বেশি কার্যকরী।
সূত্র: হেলথ লাইন







