আলোচিত সোহাগ ওরফে লালচাঁদ হত্যা মামলায় এক আসামির আদালতের প্রতি অনাস্থা সংক্রান্ত আবেদনের নির্ধারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। বুধবার (২২ জুলাই) আসামিপক্ষের আবেদনের পর আগামী ২৭ জুলাই শুনানির নতুন দিন ধার্য করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বুধবার এ আবেদনের ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে আসামিপক্ষের এক আইনজীবীর দাদা মারা যাওয়ায় সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে শুনানির জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

গত ১২ জুলাই মামলার ২১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ১৯ জুলাই সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছিল।

সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিন আদালতের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেন। তার আইনজীবী মাশরুর হোসাইন আদালতে জানান, অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন প্রবল বৃষ্টির কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। তিনি মামলার সাত আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইনজীবীর দাবি, শুনানির জন্য আরেকটি দিন দেওয়া হলে অভিযোগ গঠন নিয়ে আপত্তি উপস্থাপনের সুযোগ পাওয়া যেত। সেই সুযোগ না দিয়েই অভিযোগ গঠন করায় তার মক্কেলদের আদালতের প্রতি আস্থা নেই। এ কারণেই মহানগর দায়রা জজ আদালতে অনাস্থার আবেদন করা হয়েছে।

মামলার আসামিরা হলেন— মাহমুদ হাসান মাহিন, আলমগীর, মনির ওরফে লম্বা মনির, নান্নু ওরফে নান্নু কাজী, সজিব ওরফে সজিব বেপারী, টিটন গাজী, তারেক রহমান রবিন, জহিরুল ইসলাম, পারভেজ, সাগর, রিজওয়ান উদ্দিন ওরফে অভিজিৎ বসু ওরফে অভি, রুমান বেপারী, আবির হোসেন, জহির, ইমরান হোসেন, শারাফাত ওরফে শফিউল ইসলাম, হোসেন চৌকিদার, জিয়াউদ্দিন রাজিব, সারোয়ার হোসেন টিটু, মনির ওরফে ছোট মনির এবং অপু দাস। তাদের মধ্যে ১০ জন কারাগারে রয়েছেন, তিনজন জামিনে এবং বাকি আটজন পলাতক।

২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে ভাঙারি ও পুরোনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে মাথা ও শরীরে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া এবং পরিকল্পনায় জড়িত হিসেবে যাদের নাম এসেছে, তাদের অধিকাংশই সোহাগের পূর্বপরিচিত। তাদের কয়েকজন একসময় তার ব্যবসায়িক সহযোগীও ছিলেন। ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনার পর নিহতের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে প্রথমে ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করা হলেও তাতে ত্রুটি থাকার কথা জানিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাই অধিকতর তদন্তের আবেদন করেন। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হলে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শাহ মো. ফয়সাল আহমেদ অধিকতর তদন্ত শেষে গত ১০ মে ২১ জনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।

মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় গত ২১ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এটি মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠান। এরপর গত ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

এমডিএএ/এমএএইচ/