ঢাকার বনানী থানায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে। আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছে আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরী এ আদেশ দেন। আদালতের সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনিসুল হকের আইনজীবী আসিফুর রহমান।

তিনি বলেন, আদালত অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ২৩ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন। তার দাবি, ৫ আগস্টের পর আনিসুল হকের বাসা থেকে লাইসেন্স করা পিস্তলটি লুট হয়ে যাওয়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি থানায় জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিন দুপুরে ঢাকা মহানগর হাজতখানা থেকে কড়া নিরাপত্তায় আনিসুল হককে আদালতে আনা হয়। শুনানির সময় তার পক্ষে আইনজীবী মো. সুমন হোসাইন সময়ের আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, মামলায় নিযুক্ত জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়ায় আদালতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ফলে অভিযোগ গঠনের শুনানির প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, বনানী থানার আওতায় নিজের নামে লাইসেন্স করা একটি পিস্তলের মালিক আনিসুল হক। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করে। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ৫ মে পর্যন্ত আনিসুল হক তার লাইসেন্স করা অস্ত্র থানায় জমা দেননি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানাকেও তিনি কিছু জানাননি। পরে তার ঠিকানায় খোজ নিয়েও অস্ত্র জমা দেওয়ার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জানে আলম দুলাল অস্ত্র আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ২৯ আগস্ট একই থানার এসআই মো. ইয়াদুল হক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেফতার করা হয়। এরপর হত্যা ও হত্যাচেষ্টার বিভিন্ন মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

এমডিএএ/এমকেআর