এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৬০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৮ হাজার ৪৯ কোটি টাকা, যা আগের (২০২৩-২৪) অর্থবছরে ছিল ৬ লাখ ৪৭ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।

এই সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি ছিল বৈদেশিক মুদ্রায় ধারণ করা আর্থিক সম্পদের বৃদ্ধি। একই সঙ্গে সোনার মূল্যবৃদ্ধি, বৈদেশিক বিনিয়োগের সম্প্রসারণ এবং দেশীয় আর্থিক খাতের বিভিন্ন সম্পদে বিনিয়োগও সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা এক প্রতিবেদনের তথ্য পর্যালোচনা করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রায় আর্থিক সম্পদের পরিমাণ এক বছরে বেড়েছে ৭৬ হাজার ৯৫ কোটি টাকা, যা মোট সম্পদ বৃদ্ধির প্রধান উৎস। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩ হাজার ৮০২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৩ লাখ ২৭ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ১২৬ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, শুধু বৈদেশিক বিনিয়োগই বেড়েছে ৫৯ হাজার ৮৭ কোটি টাকা।

আয় বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাভ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে লাভ ছিল ৪০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।—প্রতিবেদনের তথ্য

এছাড়া আইএমএফ সংশ্লিষ্ট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ২ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ২৬১ কোটি টাকা, যা এক বছর আগে ছিল ৪৪ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা।

সোনার মূল্যবৃদ্ধিতে সম্পদে ইতিবাচক প্রভাব

বিশ্ববাজারে সোনার মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণীতেও। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা ও রুপার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৮৯ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১০ হাজার ১২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে সোনার কল্যাণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ বেড়েছে ৯৬৯ কোটি টাকা।

এছাড়া সোনা লেনদেন থেকে প্রাপ্ত আয় বেড়ে তিনগুণের কাছাকাছি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সোনা লেনদেন থেকে আয় হয়েছে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ২ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, সোনা লেনদেনের ওপর ভর করে সম্পদ বেড়েছে ৪ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

‘ভিসিয়াস সাইকেলে’ আটকে গেছে দেশের অর্থনীতি

এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব ৮ হাজার ৪ কোটি থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৯০৭ কোটি টাকা এবং অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ ১ হাজার ৪৩৭ কোটি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬৯৩ কোটি টাকা হয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রায় দেওয়া ঋণ ৩২ হাজার ৮৯৩ কোটি থেকে কমে ২৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

দেশীয় সম্পদে মিশ্র চিত্র

বৈদেশিক মুদ্রায় আর্থিক সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও দেশীয় মুদ্রায় আর্থিক সম্পদের পরিমাণ কমে গেছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে এ খাতের সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৭২২ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে দেশীয় মুদ্রায় আর্থিক সম্পদ কমেছে ১৫ হাজার ৫২২ কোটি টাকা।

তবে এ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে বিভিন্ন উপখাতে। পুনর্বিক্রয় চুক্তিতে (রেপো) কেনা সিকিউরিটিজ থেকে সম্পদ বেড়েছে ৩৫ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এ খাতের সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ১৫২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৭৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।

অন্যদিকে, সরকারকে দেওয়া ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৬ হাজার ৫৭ কোটি টাকা হয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৫৬ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে সরকারকে দেওয়া ঋণের পরিমাণ কমেছে ৫০ হাজার ৬৮২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা—প্রতিবেদনের তথ্য

স্থানীয় মুদ্রায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মচারীদের দেওয়া ঋণ বেড়ে ৯২ হাজার ৫০১ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৮৫ হাজার ১ কোটি টাকা। এছাড়া স্থানীয় মুদ্রায় অন্যান্য আর্থিক সম্পদ ২০ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২৩ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা হয়েছে। তবে মুদ্রা ও নগদ স্থিতি ১২৭ কোটি টাকা থেকে কমে ৬৩ কোটি টাকা হয়েছে। 

অ-আর্থিক সম্পদ

এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ-আর্থিক সম্পদ ২১৪ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে অ-আর্থিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৫২৫ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছর শেষে ছিল ৭ হাজার ৩১১ কোটি টাকা।

অ-আর্থিক সম্পদের মধ্যে সম্পদ, স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি ৭ হাজার ১২৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা, অস্পর্শনীয় সম্পদ ৫৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৬৭ কোটি টাকা এবং অন্যান্য অ-আর্থিক সম্পদ ১২৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৯৩ কোটি টাকা হয়েছে।

আরও পড়ুন

নীতি সুদহার: ব্যাংক ঋণ ও মূল্যস্ফীতিতে এর প্রভাব পড়বে কীভাবে?

দায়ও বেড়েছে

সম্পদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট দায়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট দায় দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৬ কোটি, যা আগের বছর ছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে মোট দায় বেড়েছে ৪০ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় আর্থিক দায় বেড়ে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ৯১ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। আর স্থানীয় মুদ্রায় আর্থিক দায় ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪ লাখ ২৭ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা।

ইক্যুইটিতে বড় প্রবৃদ্ধি

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইক্যুইটিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট ইক্যুইটি দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এক বছরে ইক্যুইটি বেড়েছে ২০ হাজার ৬৪৮ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়ন সঞ্চিতি, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারজনিত সঞ্চিতি এবং অন্যান্য সংরক্ষিত তহবিল বৃদ্ধির কারণে ইক্যুইটি শক্তিশালী হয়েছে।

আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ

২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট আয় বেড়ে ৩২ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের বছর ছিল ২৪ হাজার ৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরে আয় বেড়েছে ৮ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ২০ শতাংশ।

আরও পড়ুন

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক

দেশীয় মুদ্রায় আর্থিক সম্পদ থেকে সুদ আয় বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৫ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। লভ্যাংশ থেকে আয় ৮৪ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১০০ কোটি টাকা এবং বিবিধ আয় ৯৪৬ কোটি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা হয়েছে।

তবে কমিশন বা বাট্টা ৭১৯ কোটি থেকে কমে ৪৮৬ কোটি টাকা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশীয় মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে আয় হয়েছে ২৪ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৭ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট দায়ও বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুন শেষে মোট দায় দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৫ লাখ ১৩ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।—প্রতিবেদনের তথ্য

অন্যদিকে, বৈদেশিক সম্পদ থেকেও সুদ আয় বেড়ে হয়েছে ৭ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। আর কমিশন এবং বাট্টা থেকে আয় ৬৬ কোটি থেকে কমে ২৯ কোটি টাকা হয়েছে। সবমিলিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার আর্থিক সম্পদ থেকে মোট আয় হয়েছে ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

ব্যয়ও বেড়েছে

আয় বাড়ার পাশাপাশি একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ব্যয়ও বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ২২৮ কোটি টাকা, যা আগের বছর ছিল ৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।

এর মধ্যে বৈদেশিক মুদ্রায় আর্থিক দায়জনিত ব্যয় ১ হাজার ৯৮৪ কোটি থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা হয়েছে। দেশীয় মুদ্রার আর্থিক দায়ের ব্যয় ৬১৫ কোটি থেকে বেড়ে ৭৫৯ কোটি টাকা হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ৫ হাজার ২৪৮ কোটি থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা হয়েছে।

অন্যান্য ব্যয়ের মধ্যে নোট মুদ্রণজনিত ব্যয় ৩৩৭ কোটি থেকে কমে ২৩৫ কোটি টাকা হয়েছে। তবে সাধারণ ও প্রশাসনিক খরচ ১ হাজার ৮২৮ কোটি থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫১৮ কোটি এবং প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতির জন্য ভাতা ৩ হাজার ৮৩ কোটি থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা হয়েছে।

লাভ কমেছে

আয় বাড়লেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট লাভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাভ হয়েছে ৩৪ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা, যেখানে আগের অর্থবছরে লাভ ছিল ৪০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা।

এর অন্যতম কারণ হলো ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার পুনর্মূল্যায়ন থেকে অস্বাভাবিক উচ্চ আয় হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। ফলে মোট আয় বৃদ্ধি পেলেও চূড়ান্ত লাভ কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ মালিক সরকার। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বৃত্ত শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছেই যায় এবং এটি সরকারের নন-ট্যাক্স রাজস্ব হিসেবে যুক্ত হয়।—মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী

২০২৩-২৪ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার পুনর্মূল্যায়নজনিত আয় ছিল ২২ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।

যোগাযোগ করা হলে সাবেক অর্থসচিব এবং সাবেক মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় বা উদ্বৃত্তকে সাধারণ অর্থে ব্যবসায়িক লাভ বলা ঠিক নয়। এটি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বৃত্ত। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়। তার কোনো প্রতিযোগীও নেই।’

আরও পড়ুন

সংস্কারের হাওয়া লাগতেই চাঙা নন-ব্যাংকিং আর্থিক খাত

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের আয়ের একটি বড় উৎস হলো সিনিয়োরেজ, অর্থাৎ মুদ্রা ইস্যু করার ক্ষমতা থেকে অর্জিত আয়। এছাড়া রিপো, রিভার্স রিপোসহ বিভিন্ন মুদ্রানীতি পরিচালনামূলক কার্যক্রম থেকেও আয় হয়। এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমের অংশ।’

‘তাই বাংলাদেশ ব্যাংক কত লাভ করলো, সেটিকে বিশেষ সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি তার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোরই অংশ। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই উদ্বৃত্ত যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে ব্যয় না হয়ে সরকারের কোষাগারে জমা হয়’—বলেন মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

সাবেক এই অর্থসচিবের ভাষ্য, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের শতভাগ মালিক সরকার। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্বৃত্ত শেষ পর্যন্ত সরকারের কাছেই যায় এবং এটি সরকারের নন-ট্যাক্স রাজস্ব হিসেবে যুক্ত হয়। অতীতে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ উদ্বৃত্ত কোষাগারে জমা দিতে বলেছে।’

‘সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্বৃত্তকে কোনো বিশেষ কৃতিত্ব হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং নিশ্চিত করতে হবে, এই অর্থ যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যয়ে অপচয় না হয়ে সরকারের রাজস্ব হিসেবে জনগণের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়’—যোগ করেন তিনি।

এমএএস/এমকেআর/ এমএফএ