জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) জিমনেসিয়াম স্থাপনের জন্য সাবেক উপাচার্যের আমলে স্থান বরাদ্দের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি স্পন্সরও নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের কাছ থেকে নির্ধারিত স্থান বরাদ্দ না পাওয়ায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম।
সোমবার (৬ জুলাই) জকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর মাঝে ফুটবল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, বর্তমান আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগে ফুটবল দেওয়া হলেও এটি কেবল প্রতীকী সহযোগিতা। একটি ফুটবল দিয়ে কোনো দলের উন্নয়ন সম্ভব নয়। একটি শক্তিশালী ক্রীড়া দল গড়ে তুলতে একাধিক ফুটবল, জার্সি, প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, জুতা, খেলোয়াড়দের পুষ্টিকর খাবার, চিকিৎসা সহায়তা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জিমনেসিয়াম স্থাপনের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সদ্যপ্রয়াত সাবেক উপাচার্যের সময় ক্রীড়া কমিটির মাধ্যমে জিমনেশিয়ামের জন্য একটি স্থান বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য স্পন্সরও নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের সময় এসে সেই স্থান আর বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি, তার ব্যাখ্যা প্রশাসনই দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে জকসুর নামে আদায় করা ২০০ টাকার অর্থও এখন পর্যন্ত জকসুর কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। অর্থ বরাদ্দের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে গেলে বিভিন্ন সময় কমিটি গঠন ও নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়। এভাবে বিলম্ব হতে হতে জকসুর মেয়াদই শেষ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
স্থান বরাদ্দ পেলে জকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য জিমনেসিয়াম নির্মাণ করা হবে জানিয়ে ভিপি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যারেজের নিচে পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে অল্প পরিসরেই একটি আধুনিক জিমনেসিয়াম স্থাপন সম্ভব, যেখানে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী শরীরচর্চার সুযোগ পাবেন। কিন্তু প্রশাসনের সহযোগিতা না পাওয়ায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ফুটবল বিতরণের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও নিয়মিত শরীরচর্চায় উৎসাহিত করা। এটি কোনো বড় সহায়তা নয়, বরং জকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শুভেচ্ছা উপহার।
বক্তব্যের শেষাংশে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, জকসুর প্রতিনিধিরা নিজেদের শিক্ষার্থীদেরই অংশ মনে করেন। কোনো ভুল বা সীমাবদ্ধতা থাকলে শিক্ষার্থীরা যেন তা তুলে ধরেন। সবার সহযোগিতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নেওয়াই বর্তমান জকসুর লক্ষ্য।
টিএইচকিউ/এমআরএম








