একটি স্পর্শ, একটি গোলেই বদলে যায় দলের ভাগ্য। পর্তুগালের বিপক্ষে তেমনই এক মুহূর্তের জন্ম দিয়েছেন মিকেল মেরিনো। শেষ মুহূর্তের গোলে স্পেনকে তুলেছেন কোয়ার্টার ফাইনালে। বিদায়ের বেদনা উপহার দিয়েছেন পর্তুগালকে। ১৯৯৬ সালের ২২ জুন স্পেনের নাভারা অঞ্চলের পাম্পলোনায় জন্ম মেরিনোর। ফুটবলের সঙ্গে সম্পর্ক শুরু পরিবার থেকে। বাবা মিগেল মেরিনো ছিলেন পেশাদার ফুটবলার। তাই ছোটবেলা থেকে বল তার সঙ্গী। বাবার পথ অনুসরণ করে স্বপ্ন দেখেন একদিন দেশের জার্সি গায়ে বড় মঞ্চে খেলার।

স্বপ্নের ভিত গড়ে ওঠে ওসাসুনার একাডেমিতে। সেখান থেকে প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে পাড়ি দেন জার্মানির বরুসিয়া ডর্টমুন্ডে। খেলেছেন ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনাইটেডেও। তার ক্যারিয়ারের উত্থান হয় রিয়াল সোসিয়েদাদে। সেখানে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন স্পেনের অন্যতম সেরা বক্স-টু-বক্স মিডফিল্ডার হিসাবে। সাফল্য তাকে নিয়ে যায় আর্সেনালে। ইংল্যান্ডেও নিজের পরিশ্রম, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ-রক্ষণে সমান দক্ষতায় দ্রুত সমর্থকদের আস্থা অর্জন করেন। স্পেনের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের পর সিনিয়র জাতীয় দলেও নিজের জায়গা করে নেন মেরিনো। হয়ে ওঠেন মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা। মাঠে তার উপস্থিতি মানে ভারসাম্য, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাস। বিশ্বকাপেও স্পেনের নীরব শক্তি এই মিডফিল্ডার। শেষ ষোলোর ম্যাচে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায় লিখেছেন। পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচটি যখন অতিরিক্ত সময়ের দিকে যাচ্ছে, তখন যোগ করা সময়ে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের ভেতরে সুযোগ পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হয় স্পেনের। শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ। এক মুহূর্তেই নায়কে পরিণত হন মেরিনো।

মাঝমাঠে তার দাপট তাকে আলাদা করে। আকাশে বল দখলের সক্ষমতা, নিখুঁত পাস, দূরপাল্লার শট এবং খেলার গতি বোঝার অসাধারণ ক্ষমতা তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম পরিপূর্ণ মিডফিল্ডারে পরিণত করেছে। জয়ের পর তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মুহূর্তের জন্যই আমরা ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখি। এই গোলটি আমার ক্যারিয়ারের বিশেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে। আমরা দল হিসাবে জিতেছি। আমি বিশ্বাস করি, এই স্পেন দল আরও অনেক দূর যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পর্তুগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে হারাতে হলে সবাইকে নিজেদের সেরাটা দিতে হয়। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস হারাইনি। সেই বিশ্বাসই আমাদের জয় এনে দিয়েছে।’

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও মেরিনোর ভূঁয়সী প্রশংসা করেন। তার ভাষায়, ‘মিকেলকে যে কোনো কোচ নিজের দলে রাখতে চাইবে। সে কখনো আলো দাবি করে না; কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব সময় সামনে এসে দাঁড়ায়।’