শুধুমাত্র পাহারা জোরদার করে হালদা নদী রক্ষা করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারী থেকে শুরু করে এই নদীর সঙ্গে জড়িত সবাইকে অনুধাবন করতে হবে যে নদীটি আমাদের এবং একে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে চট্টগ্রামের রাউজানের সত্তারঘাট সংলগ্ন হালদা নদীর পাড়ে মৎস্যজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন, ‘হালদার ওপর নির্ভরশীল মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির কাজ চলছে। এখন সেলাই মেশিন দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও উন্নত ব্যবস্থা করা হবে। হালদা নদীর দূষণসহ সব বাধা দূর করতে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ করছি।’রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেন, ‘একটি সরকার ১৭ বছর দেশকে জ্বালিয়ে এখন আমরা মাত্র চার মাস হলো সরকারে এসেছি। এই অল্প সময়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের জন্য কাজ শুরু হয়ে গেছে।’অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী। যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান সরাসরি বর্জ্য ফেলে নদী দূষণ করছে, তাদের খুব অল্প সময় দেওয়া হবে। তারা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেমিক্যাল ট্রিটমেন্ট বা বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত না করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও স্থানীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. খালেদ কনক বক্তব্য দেন। রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।আলোচনা সভা শেষে মন্ত্রী ও অতিথিরা হালদা নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। পরে তারা ‘পানসি-২’ নৌযানে করে নদী ও মোবারকখিল হ্যাচারি পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।