দেশের দুই জেলায় একদিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে সিলেটে ৯ জন ও বগুড়ায় সাতজন রয়েছেন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) পৃথক সময়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

সিলেট

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী শিশু জাইফা, নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)।

আরও পড়ুন

সিলেটে দুই বাসের সংঘর্ষ: নিহত বেড়ে ৯

 

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সিলেটের উসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ইউনিক বাসটি খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক বাসের সাত যাত্রীর মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহত ও নিহতদের উদ্ধার করেন।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, মরদেহ পরিবারে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানান ওসি।

এ ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৪ জন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আরও পড়ুন

মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ / কাজের খোঁজে হাটে আসাই কাল হলো ৭ শ্রমিকের

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. উমর রাশেদ মুনীর জানান, দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে পরবর্তী সময়ে ইএনটি, চক্ষু ও নিউরোসার্জারি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি তিনজনের মধ্যে একজনের সিটিস্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এসেছে। একজনের সিটিস্ক্যান এখনো সম্পন্ন হয়নি। আরেকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক আরও জানান, হাসপাতালে আনা ১৬ জনের মধ্যে একটি শিশুকে প্রথমে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। বাকি ১৪ জনের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বাকিদের অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা / ‘বেপরোয়া এক মোটরসাইকেলের জন্য’ মুহূর্তে শেষ ৯ প্রাণ

 

বগুড়া

বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর বাসটি উঠে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাপোঁড় মধ্যপাড়ার বেল্লাল হোসেন (৪০), কাহালু উপজেলার নারহট্ট সরদার পাড়ার নুর মোহাম্মদ সরদার (৭৫), জয়পুরহাট জেলার কালাই থানার মো. আনারুল ইসলাম (৫৫), পাঁচবিবি থানার আমিরুল (৪০), গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আবু সাইদ (৪৫), একই উপজেলার নুর আলম (৪৫) এবং দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মো. তাজিমুল (৪৭)।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার এবং আহতদের প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা / রাতে মাজারে গান, সকালে সড়কে প্রাণ গেলো শিল্পী পেহলি ভৈরবীর

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুররা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এ হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এসময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছয়জন এবং পরে শজিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজিমুল নামের আরেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ঘটনাস্থলে গতিরোধক (স্পিডব্রেকার) নির্মাণের কাজ শুরু করলে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনা / বন্ধুদের সঙ্গে সাইফুলের এই ছবি এখন শুধুই স্মৃতি

 

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, একটি মোটরসাইকেল আরোহীকে বাঁচাতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা যান।

ওসি আরও জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পর দরিদ্র পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এলবি/জেএএইচ/এসআর