সুনামগঞ্জে ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এ রায়ে ২ জনের যাবজ্জীবনসহ ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি শেরেনুর আলী। ২০১৪ সালে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ওয়ারিশ আলী। মামলার রায়ে ১১ জনের মধ্যে বাদশা মিয়া ও খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক।

এছাড়া চার জনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—নূরুজ্জামান, খোরশেদ আলম, রামিজ আলী ও নূরুল মিয়া এবং দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নূর উদ্দিন, সহিনূর মিয়া ও তাহের মিয়া।

এ ছাড়া ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার রায়ের বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষী ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শেরেনুর আলী বলেন, মামলায় আসামি ছিল ২৫–২৬ জন। এর মধ্যে ২ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকিদের খালাস প্রদান করেছেন আদালত।