সুন্দরবনের এক আতঙ্কের নাম ফরিদ হাওলাদার। বারবার জেল খাটলেও তার নেশা ও পেশাই হচ্ছে হরিণ শিকার। অবশেষে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে ঢুকে হরিণ শিকারের প্রস্তুতির সময় সহযোগীসহ বনরক্ষীদের হাতে ধরা পড়েছেন তিনি। শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগামারী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।আটক ফরিদ হাওলাদার (৫৫) মোংলা উপজেলার দক্ষিণ চিলা গ্রামের বাসিন্দা। তার সঙ্গে আটক অন্য তিনজন হলেন-আতাউর খান (৫৬), মোজাম জোমাদ্দার (৩৩) ও রুহুল জোমাদ্দার (৩৫)। বন বিভাগ জানিয়েছে, ফরিদ একজন চিহ্নিত পেশাদার হরিণ শিকারি এবং তার বিরুদ্ধে বনের সম্পদ ধ্বংস ও হরিণ পাচারের একাধিক মামলা রয়েছে।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, ‘ফরিদ একজন কুখ্যাত শিকারি। কিছুদিন আগেই তিনি জেল থেকে জামিনে বের হয়ে পুনরায় হরিণ শিকারে নামেন। বর্তমানে প্রজনন মৌসুম চলায় সুন্দরবনে প্রবেশের ওপর তিন মাসের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই আইন অমান্য করেই তারা বনের ভেতরে ঢুকেছিলেন।’অভিযান পরিচালনাকারী বনরক্ষীরা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৃগামারী খালে ওত পেতে ছিল চাঁদপাই ফরেস্ট স্টেশন ও আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের একটি দল। ভোররাতে শিকারিদের নৌকাটি সেখানে পৌঁছালে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে নৌকা তল্লাশি করে ৩০০ ফুট হরিণ শিকারের ফাঁদ, আড়াই মণ জ্যান্ত কাঁকড়া এবং কাঁকড়া ধরার ৫০টি নিষিদ্ধ ‘চারু’ (বিশেষ ফাঁদ) জব্দ করা হয়।বন বিভাগ জানায়, আটক চারজনের বিরুদ্ধে বন আইনে নতুন মামলা করে শনিবার দুপুরে বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় এমন চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান কর্মকর্তারা।
রাজনীতি
সুন্দরবনের আতঙ্ক শিকারি ফরিদ ফের আটক

শেয়ার করুন







