কুড়িগ্রামের রৌমারীর ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তে দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে শূন্যরেখায় অবস্থানরত তিন বাংলাদেশি নাগরিক রাতের অন্ধকারে নিখোঁজ হয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) ভোর থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ‘সীমান্তে অবস্থানরত ওই তিন যুবককে বুধবার সকাল থেকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি ইজলামারী বিজিবি ক্যাম্পকে জানানো হলেও তারা নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।

জানা গেছে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তের ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে কালাপানি জিঞ্জিরাম নদীর সেতুর নিচ দিয়ে ভারতের ১৮৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মাইনকারচর সাহাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তিন বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

পরে বিএসএফ সদস্যরা ওই তিনজনকে শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে কালাপানি জিঞ্জিরাম নদীর তীরে রেখে চলে যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও, কোনো পক্ষ তাদের গ্রহণ না করায় তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন- সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দী গ্রামের মো. জহিরুল ইসলাম (২৬), নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাওতা গ্রামের মো. পারভেজ মিয়া (২১) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাউছিয়া গ্রামের মো. নাঈম আহমেদ (২২)।

শূন্যরেখায় অবস্থানরত ৩ ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে নিখোঁজ

এর আগে, গত ১৪ জুন ভোরে রৌমারীর গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তে পৃথক দুই ঘটনায় বিএসএফ নয় বাংলাদেশি নাগরিককে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। স্থানীয়দের বাধা ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেননি।

গয়টাপাড়া সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা করা ছয়জনের মধ্যে বিল্লাল হোসেন, তার স্ত্রী সুমি আক্তার ও দুই সন্তানকে পরে রৌমারী থানায় হস্তান্তর করা হলে মানবিক বিবেচনায় পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েক দিন পর একই দলের বাকি দুইজন সজিব ও হিমেলও সেখান থেকে চলে যান।

অন্যদিকে, ভুন্দুরচর সীমান্তে অবস্থানরত জহিরুল, পারভেজ ও নাঈম অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর আটক হন। পরে বিএসএফ তাদের পুশ-ইনের চেষ্টা করলে তারা ১৭ দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন। বুধবার ভোর থেকে তাদেরকে আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না।

জামালপুর ৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হাসানুর রহমান বলেন, ‘শূন্য রেখায় অবস্থান করা তিন যুবককে বুধবার ভোর থেকে সীমান্তে আর দেখা যাচ্ছে না। তাদের অনুসন্ধানে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

রোকনুজ্জামান মানু/এএইচ/জেআইএম