বিশ্বকাপে এর আগে কখনো জয়ই পায়নি। সেই মিসর প্রথমবারের মতো পা রেখেছে শেষ ষোলোয়। শুক্রবার রোমাঞ্চকর এক ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় পেনাল্টি শুটআউটে।
টাইব্রেকারে নিজেদের চারটি শট থেকেই গোল করতে সফল হয় মিসর। এর মধ্যে একটি সফল স্পট কিক নেন দলের তারকা ফরোয়ার্ড মোহামেদ সালাহ। অস্ট্রেলিয়ার হ্যারি সুটার ও লুকাস হেরিংটন শট মিস করলে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় সকারুদের।
অথচ টাইব্রেকারের ঠিক আগমুহূর্তে পেনাল্টি ঠেকাতে কৌশলী পরিবর্তন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পোপোভিচ। নিয়মিত গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচকে উঠিয়ে মাঠে নামিয়েছিলেন অভিজ্ঞ ম্যাথু রায়ানকে। তবে কোচের সেই বাজি শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।
এর আগে ম্যাচের ১৩ মিনিটেই ইমাম আশুরের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নিজেদের প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলতে নামা মিসর। তবে ম্যাচের আসল নাটকীয়তা তখনও বাকি ছিল। টেক্সাসে ৫৫ মিনিটে মিসরের ডিফেন্ডার মোহামেদ হানির আত্মঘাতী গোল অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে ফেরায়।
ম্যাচের একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডফিল্ডার কনর মেটকাফের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে মাথায় চোট পেয়ে মাঠে বেশ কিছুক্ষণ পড়ে ছিলেন হানি। কনকাশন (মাথায় আঘাতজনিত সমস্যা) আশঙ্কায় চিকিৎসকেরা মাঠে আসেন এবং স্ট্রেচারও প্রস্তুত রাখা হয়। তবে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে হানি মাঠেই থেকে যান। কিন্তু সুস্থ হয়ে খেলায় ফেরার কিছুক্ষণ পরই এক নম্বর গোলপোস্টের সামনে নিজের জালে বল জড়িয়ে বসেন এই ডিফেন্ডার।
এর আগে গ্রুপ পর্বে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচেও একটি আত্মঘাতী গোল করেছিলেন হানি। আর তাতেই বিশ্বকাপের এক আসরে দুটি আত্মঘাতী গোল করা ইতিহাসের দ্বিতীয় খেলোয়াড় বনে যান এই মিসরীয় ডিফেন্ডার। এর আগে ১৯৬৬ সালে বুলগেরিয়ার ইভান ভুতসভ এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন। এবারের আসরে এটি ছিল ১৩তম আত্মঘাতী গোল, যা ২০১৮ বিশ্বকাপের ১২ গোলের আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ের ৩০ মিনিটেও আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। যেখানে স্নায়ুযুদ্ধে শতভাগ সফল হয়ে মাঠ ছাড়ে মিসর। নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে নকআউট পর্বে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল তারা।
পরের রাউন্ডে মিসরের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার ম্যাচের জয়ী দল।








