হারারেতে একমাত্র টেস্টে দ্বিতীয় দিনজুড়েই বাংলাদেশের বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর বল হাতেও খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাইজুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পিনে ৪১০ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস। তবে ততক্ষণে ২৭০ রানের বিশাল লিড নিয়ে নিয়েছে জিম্বাবুয়ে। ৭ উইকেট নেন তাইজুল। টেস্টে এ নিয়ে ১৯ ইনিংসে ৫ বা তার বেশি উইকেট নিলেন তিনি। সাকিব আল হাসানও সমান সংখ্যক ফাইফার নিয়েছেন, তাদের উপরে আর কেউই নেই।

১ উইকেটে ১৩৬ রান নিয়ে দিন শুরু করে জিম্বাবুয়ে। দিনের শুরুতেই ব্রেন্ডন টেলরকে ফিরিয়ে দেন খালেদ আহমেদ। কিন্তু এরপর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ব্রায়ান বেনেট বাংলাদেশের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। তাদের তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১০৭ রান।

এর মধ্যে ১৫৩ বলে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন কাইয়া। পরে বেনেটও ৫৯ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। মধ্যাহ্ন বিরতিতে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২৪৯ রান, তখন তাদের লিড দাঁড়ায় ১০৯ রানে।

লাঞ্চের পর প্রথম আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। নিজের বল নিজেই ক্যাচ নিয়ে ফেরান বেনেটকে। এরপর কাইয়া ২২৭ বলে ১৪০ রানের দারুণ ইনিংস খেলেও তাইজুলের শিকার হন। একই ওভারে রানআউটে ফেরেন টাফাডজাওয়া সিগা, ফলে কিছুটা ম্যাচে ফেরার আশা জাগে বাংলাদেশের।

তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি সফরকারীরা। ক্রেইগ আরভিন ও ওয়েসলি মাধেভেরে ষষ্ঠ উইকেটে ১০২ রানের জুটি গড়ে আবারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। আরভিন ৬০ ও মাধেভেরে ৫৫ রান করে আউট হন।

শেষদিকে পুরো দায়িত্ব তুলে নেন তাইজুল। ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামুরি, রিচার্ড এনগারাভা ও সর্বশেষ ব্লেসিং মুজারাবানিকে ফিরিয়ে ইনিংসে ৭ উইকেট পূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। বাংলাদেশের হয়ে বাকি দুটি উইকেট নেন খালেদ আহমেদ, আর একটি আসে রানআউট থেকে।

১০৭.২ ওভারে ৪১০ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে এখন ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষাই অপেক্ষা করছে।

এসকেডি/আইএন