টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়েছে। একই সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে অব্যাহত বৃষ্টিতে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিচতলা হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ল্যাবরেটরি ও প্রশাসনিক কক্ষগুলোতে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

উপজেলার পশ্চিম গোমদণ্ডী, পশ্চিম শাকপুরা, ঘোষখীল ও কধুরখীল ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দা পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আরও পড়ুন

তলিয়ে গেছে রেললাইন, চট্টগ্রামে আটকা কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস

গতকাল সোমবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির পর থেকেই উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

পৌর সদরের বাসিন্দা মো. আজিজ বলেন, দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। মোবাইলে চার্জ না থাকায় জরুরি যোগাযোগও করতে পারছি না। বৃষ্টি হলেই কোনো না কোনো অজুহাতে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে।

সকালে আরাকান সড়কের নয়া রাস্তার মাথা এলাকায় একটি গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গাছটি কেটে সরিয়ে দিলে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।

আরও পড়ুন

জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে স্থবির চট্টগ্রাম নগরী, জনদুর্ভোগ চরমে

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, সকালে গাছ পড়ে সড়কে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। খবর পেয়ে সেটি দ্রুত অপসারণ করা হয়েছে।

পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা বলেন, পৌর এলাকার কয়েক স্থানে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য পৌরসভার কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

এমআরএএইচ/কেএসআর