টানা ভারী বর্ষণের মধ্যেও চট্টগ্রাম নগরীতে আগের তুলনায় জলাবদ্ধতা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেন, “৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হওয়ার পরও নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমেনি। যেসব খালের উন্নয়নকাজ চলমান, সেসব এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।”

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রামের কাতালগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মেয়র।

ডা. শাহাদাত বলেন, “৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হওয়ার পরও জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জলাবদ্ধতা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে সিটি করপোরেশন।”

তিনি জানান, অতীতে জলাবদ্ধতায় ভোগা বন্দরহাট, মুরাদপুর, আগ্রাবাদ, মির্জাপুর, দেওয়ানহাট, বাকলিয়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, বন্দর ও পতেঙ্গাসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এবার পানি জমেনি। তবে, হিজড়া খাল, জামালখান খাল, গুলজার খাল ও আজহার খালের উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় ওইসব এলাকার কিছু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।”

মেয়র বলেন, “কাতালগঞ্জ এলাকায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে খালের উন্নয়নকাজ এখনো শেষ হয়নি। বর্ষা মৌসুমের কারণে কিছু কাজ বাকি রয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে অবশিষ্ট কাজ শেষ হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে এ এলাকায় আর পানি জমবে না।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিং করছেন। নগরবাসীকে দুর্ভোগমুক্ত রাখতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসা, বন্দর, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সবাই একযোগে কাজ করছে।”

পাহাড়ধসের ঝুঁকি প্রসঙ্গে ডা. শাহাদাত বলেন, “জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহযোগিতায় একটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় নজরদারি জোরদার, বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও সহায়তা নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”