প্রায় ২৫ বছর আগে স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় রেখা খাতুনের (৪০)। মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে অন্যের দেওয়া মাত্র ৩২ হাত জায়গার (প্রায় এক থেকে দেড় শতক) ওপর একটি ছোট ঘর। সংসার চালাতে কখনো অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ, কখনো ধান মাড়াই, আবার কখনো মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। অনিশ্চয়তা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে কেটেছে তাঁর জীবন।
একই গ্রামের বুলবুলি বেগমের (৫০) জীবনসংগ্রামও কম নয়। কয়েক বছর আগে স্বামী নুরুল ইসলামের মৃত্যু হয়। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে মানুষ করতে বছরের পর বছর অন্যের বাড়িতে কাজ, জমিতে নিড়ানি দেওয়া এবং মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন। ছেলে এখন আলাদা সংসার করলেও জীবিকার তাগিদে এখনো শ্রম বিক্রি করে চলতে হচ্ছে তাঁকে।
রেখা ও বুলবুলির বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার আশানবাড়ী এলাকায়। তাঁদের মতো বিধবা, বয়স্ক ও অসচ্ছল মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্নপূরণে এবার পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পরিবর্তন’-এর বাস্তবায়নে ‘গাভি পালন কর্মসূচি’র আওতায় রোববার (২৮ জুন) তাড়াশ উপজেলা পৌরসভা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে ১০ জন হতদরিদ্র নারী-পুরুষের মধ্যে বিনা মূল্যে ১০টি বকনা গরু বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীদের মধ্যে ছয়জন নারী ও চারজন পুরুষ রয়েছেন।
এ উপলক্ষে উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন ও গরু বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি উপকারভোগীদের হাতে বকনা গরু তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিবর্তন-এর সভাপতি মো. মুনসুর রহমান বাচ্চু।
বক্তারা বলেন, শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান নয়, গরু পালন বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে উপকারভোগীদের স্বাবলম্বী করে তোলা এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
পরিবর্তন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের সহযোগী সংস্থা হিসেবে ১৪ বছর ধরে তাড়াশ উপজেলার দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে সংস্থাটি।








