তরুণ প্রজন্মের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।

তিনি বলেছেন, একটি সুশিক্ষিত ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী তরুণ প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর।

রোববার (১২ জুলাই) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. এম এ মুহিত বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে তরুণ সমাজের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন প্রতিফলিত হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করেই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ হচ্ছে। এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং সুখী পরিবার গঠনের লক্ষ্যে তরুণদের সুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাধীন কর্মসংস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।

আরও পড়ুন

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিমন্ত্রীর ভিডিও কল, কথা বললেন রোগীদের সঙ্গে

স্বাস্থ্যখাতে প্রযুক্তির আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তরুণ প্রজন্মের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ‘ই-হেলথ’ ও ডিজিটাল সিস্টেমের সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের জনবলকে আরও দক্ষ করতে তরুণ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের মেডিকেল ও পোস্ট-গ্রাজুয়েট শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমান সময়ের তরুণদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী স্থূলতা, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, খেলাধুলায় অনীহা এবং ডিজিটাল ডিভাইসের অতি ব্যবহারের ফলে তরুণরা নতুন ধরনের স্বাস্থ্য সংকটে পড়ছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।

তরুণদের স্বপ্ন যেন কোনো পরিস্থিতির ওপর নির্ভর না করে রাষ্ট্রের সুচিহ্নিত বিনিয়োগের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়—সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

সেবার মান বাড়াতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. জিন্নাত রেহানাসহ স্বাস্থ্যখাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসইউজে/এমকেআর