বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন প্রায় দুই দশক পর আবার কলকাতায় ফিরছেন। তার এই সফরকে ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বর্তমানে ৬৩ বছর বয়সী তসলিমা নাসরিন ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। তার আত্মজীবনীমূলক বইয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু হলে সে সময়ের সিপিএম সরকার বইটি নিষিদ্ধ করে।
২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতায় বসবাস করেন। বর্তমানে দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক অনুমতি নিয়ে তিনি দিল্লিতে থাকেন।
১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তার। ২০০৭ সালের পর এটিই হবে তার প্রথম কলকাতা সফর। তিনটি সংগঠনের যৌথ আমন্ত্রণে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিন নিজের কয়েকটি কবিতা আবৃত্তি করবেন এবং তাকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার পর একটি আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখবেন।
অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এবং লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের এই সফরকে ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বলেন, তিনি আগে থেকেই তসলিমা নাসরিনকে পশ্চিমবঙ্গে আনার কথা বলেছিলেন। তার প্রশ্ন, কেন তসলিমা নাসরিনের কণ্ঠরোধ করা হবে?
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান দাবি করেন, তসলিমা নাসরিন বিভিন্ন সময়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তার মতে, এ কারণেই ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ তাকে স্বাগত জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশের একজন লেখিকা। তিনি মুসলিম সমাজ এবং ইসলামের শরিয়াহ নিয়ে অনেক সমালোচনা করেছেন। কেউ মুসলমানদের বিরুদ্ধে কথা বললে ডাবল ইঞ্জিন সরকার তাকে সম্মান জানায়—এটাই বাস্তবতা।
পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল তসলিমা নাসরিনের সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে তাকে আর কলকাতায় ফিরতে দেওয়া হয়নি। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তারা তার বইয়ে সত্য লেখার পরও তাকে নিরাপত্তা দেয়নি। তার দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের আমলে তসলিমার ফিরে আসা রাজ্যের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়।
তবে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, এই সফর মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিজেপির একটি রাজনৈতিক কৌশল।
তিনি বলেন, বিজেপি অন্নপূর্ণা প্রকল্প, সস্তায় বিদ্যুৎ এবং নারীদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তারা এসব ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। এখন নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতে তসলিমা নাসরিনকে এনে মুসলমানদের নিয়ে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পরে এটিকে উন্নয়নের ইস্যু হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএসএম








