মেক্সিকোবাসীর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অ্যাভোকাডো থাকে—এ কথা সবার জানা। ভিটামিন এ, সি, ই, কে, ওমেগা ৩ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ এই ফল সুপার ফুডের তালিকায়ও রয়েছে। মেক্সিকানরা এই ফল খাওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের যত্নেও ব্যবহার করেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এই ফল থেঁতো করে বা এই ফল দিয়ে তৈরি তেলও নানাভাবে ত্বক ও চুলে ব্যবহার করেন তাঁরা। মেক্সিকান বিউটি ব্র্যান্ডগুলোও এই ফলের নির্যাস ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করে। ত্বক ও চুলের যত্নে মেক্সিকানরা যেভাবে অ্যাভোকাডো ব্যবহার করেন; চলুন, জেনে নেওয়া যাক–
সরাসরি ব্যবহার
ঘুম থেকে উঠে মুখ ধোয়ার পর পরিচ্ছন্ন ত্বকে অ্যাভোকাডো পেস্ট মেখে রাখুন ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এরপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। চাইলে গলায়, ঘাড়ে ও হাতে একই উপায়ে ব্যবহার করতে পারেন।
অ্যাভোকাডো ও মধুর ফেস মাস্ক
শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বক থেকে রেহাই পেতে বা কড়া রোদে পোড়া দাগ তুলতে একটি পাকা অ্যাভোকাডোর অর্ধেক অংশ এক টেবিল চামচ কাঁচা মধুর সঙ্গে মেখে নিন। পরিষ্কার মুখ ও ঘাড়ে সমানভাবে লাগান। ফ্যাটি অ্যাসিড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শোষিত হওয়ার জন্য এটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
ত্বকের আর্দ্রতা ফেরাতে বিশুদ্ধ অ্যাভোকাডো তেলের ব্যবহার
বোতলজাত অ্যাভোকাডো তেল মেক্সিকোর সুপারমার্কেট এবং স্থানীয় বাজারগুলোতে সহজলভ্য। এটি চমৎকার, ত্বকের গভীরে প্রবেশকারী ফেশিয়াল অয়েল এবং মেকআপ রিমুভার বলা যায়। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক ভেতর থেকে জেল্লা ছড়ায়।
মেকআপ রিমুভার হিসেবে
একটি কটন প্যাডে কয়েক ফোঁটা অ্যাভোকাডো তেল নিয়ে আলতো করে মেকআপ মুছে ফেলুন। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে মুখ ক্লিজিং করুন।
নাইট ময়শ্চারাইজার হিসেবে
রাতে ঘুমানোর সময় ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে, রাতের পরিচ্ছন্নতার শেষে ত্বকে ২ থেকে ৩ ফোঁটা তেল ম্যাসাজ করুন। ত্বক পেলব হয়ে উঠবে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এক্সফোলিয়েটিং স্ক্রাব
শরীর বা মুখের জন্য একটি প্রাকৃতিক স্ক্রাব তৈরি করতে চটকানো অ্যাভোকাডো, এক চা-চামচ অ্যাভোকাডো তেল এবং এক টেবিল চামচ চিনি বা ওটস একসঙ্গে ব্লেন্ড করুন। গোসলের সময় আলতোভাবে বৃত্তাকার গতিতে ব্যবহার করুন, তারপর ধুয়ে ফেলুন।
হেয়ারপ্যাক হিসেবে
পাকা অ্যাভোকাডোর শাঁস ভালোভাবে চটকে তার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল বা মধু মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। এটি ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ধুয়ে নিলেই হয়ে যায়। এ ছাড়া অ্যাভোকাডো, অলিভ অয়েল, লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নেওয়া হয়। পেস্টটি চুলে লাগিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হয়। এরপর শ্যাম্পু করে কন্ডিশনার ব্যবহার করা হয়। মাসে অন্তত দুবার এই মাস্ক করলে চুল উজ্জ্বল ও ঝলমলে দেখায়।
চুল গজাতে অ্যাভোকাডো অয়েলের ব্যবহার
মাথার ত্বকে অ্যাভোকাডো অয়েল ম্যাসাজ করলে চুল পড়া কমে বলে বিশ্বাস মেক্সিকানরা। এই তেলে আছে প্রচুর মনো ও পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ডি, ই, পটাশিয়াম ও লেসিথিন। এই তেল ব্যবহারে মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং নতুন চুল গজায়।
সূত্র: বার্ডি ও অন্যান্য








