ত্বকের যত্নের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করা। সারাদিনের ধুলাবালি, অতিরিক্ত তেল, ঘাম এবং দূষণের কারণে ত্বকের রোমছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর ফলেই দেখা দিতে পারে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও ত্বকের নিস্তেজ ভাব। তাই নিয়মিত ক্লেনজিং বা মুখ পরিষ্কার করা জরুরি।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফেস ওয়াশ ও ক্লিনজার পাওয়া গেলেও এগুলোর অনেকগুলোতেই কৃত্রিম সুগন্ধি, সালফেট বা অন্যান্য রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সবসময় উপযোগী নাও হতে পারে। তাই অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ঘরোয়া ফেস ওয়াশের দিকে ঝুঁকছেন।
প্রাচীনকাল থেকেই ত্বকের যত্নে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদে নিমকে ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নিমে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এটি অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে। বাড়িতে খুব সহজে নিম দিয়ে তৈরি করতে পারেন দুটি কার্যকর ফেসওয়াশ।
নিম ও অ্যালোভেরা ফেসওয়াশ
অ্যালোভেরা ত্বককে আর্দ্র রাখতে এবং প্রশান্তি দিতে পরিচিত একটি উপাদান। এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও বিভিন্ন উপকারী যৌগ, যা ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে। নিমের সঙ্গে অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি সতেজ অনুভূতি দেয়।
একটি পরিষ্কার পাত্রে ১ চা চামচ নিমের গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। প্রথমে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। এরপর পেস্টটি মুখে লাগিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে ১-২ মিনিট আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। আরও ৫ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
সবশেষে পরিষ্কার নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ আলতোভাবে মুছে নিন। এই মিশ্রণ ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং মুখকে সতেজ রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এটি ব্রণ বা দাগের চিকিৎসার বিকল্প নয়।
নিম ও হলুদের ফেসওয়াশ
হলুদে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। নিমের সঙ্গে হলুদের সংমিশ্রণ ত্বক পরিষ্কার রাখতে সহায়ক হতে পারে এবং সাময়িক লালচে ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।
একটি পাত্রে ২ চা চামচ নিম গুঁড়া,আধা চামচ হলুদ গুঁড়া ১ চা চামচ গোলাপ জল নিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজন হলে অল্প পানি দিয়ে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন। মুখ পরিষ্কার করে পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে ১-২ মিনিট হালকা ম্যাসাজ করুন। এরপর ৫-৬ মিনিট রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ আলতোভাবে মুছে নিন।
ব্যবহার করার আগে যা মনে রাখবেন
ঘরে তৈরি ফেস ওয়াশে কোনো রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ থাকে না। তাই প্রতিবার অল্প পরিমাণে তৈরি করাই ভালো। যদি সংরক্ষণ করতে চান, তবে পরিষ্কার ও বায়ুরোধী পাত্রে রেখে ফ্রিজে সর্বোচ্চ ২-৩ দিনের মধ্যে ব্যবহার শেষ করুন।
যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তারা মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই হাতে বা কানের পেছনে প্যাচ টেস্ট করে নিন। কোনো ধরনের জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
আরও পড়ুন
উজ্জ্বল ত্বক পেতে যেসব ক্লে ব্যবহার করবেন
এছাড়া ত্বকে যদি তীব্র ব্রণ, একজিমা, সংক্রমণ বা অন্য কোনো চর্মরোগ থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায় ব্যবহারের আগে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুন
সেনসিটিভ ত্বকে জন্য বাড়িতে বানান ময়েশ্চারাইজার
প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি ফেস ওয়াশ ত্বকের নিয়মিত যত্নের একটি ভালো অংশ হতে পারে। তবে সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকের জন্য শুধু ফেস ওয়াশ নয়, পর্যাপ্ত পানি পান, সুষম খাদ্য, সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং নিয়মিত স্কিনকেয়ার রুটিনও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বি বিউটিফুল, হিন্দুস্তান টাইমস ও অন্যান্য
এসএকেওয়াই








