বাঙালির খাবারের তালিকায় মাছের গুরুত্ব অনেক। মাছের নরম মাংসের পাশাপাশি অনেকে ছোট মাছের কাঁটাও চিবিয়ে খেতে পছন্দ করেন। আবার কখনো অসাবধানতাবশত মাছের কাঁটা গিলে ফেলেন। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, মাছের কাঁটা পেটে গেলে কি ক্ষতি হয়? নাকি এরও কিছু উপকারিতা রয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ও নরম মাছের কাঁটায় এমন কিছু খনিজ উপাদান থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সব ধরনের মাছের কাঁটা খাওয়া নিরাপদ নয়। তাই উপকারিতার পাশাপাশি ঝুঁকির বিষয়টিও জানা জরুরি।

কাঁটায় থাকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ

মাছের কাঁটায় প্রধানত ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম এবং কোলাজেন-জাতীয় উপাদান থাকে। এসব উপাদান হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে ছোট মাছের নরম কাঁটা ভালোভাবে চিবিয়ে খেলে শরীর কিছুটা অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম পেতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাছের কাঁটা থেকে তৈরি ক্যালসিয়াম পাউডার খাদ্য সম্পূরক (সাপ্লিমেন্ট) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এটি ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

jago

হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী হতে পারে

পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস হাড়ের ঘনত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাই ছোট মাছের নরম কাঁটা নিয়মিত ও নিরাপদভাবে খাওয়া হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি বয়সজনিত হাড় ক্ষয় বা অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনো চিকিৎসার বিকল্প নয়।

মাছের কাঁটা নিয়ে কী বলছে গবেষণা?

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, মাছের কাঁটা সাধারণত ফেলে দেওয়া হলেও এতে উচ্চমাত্রার খনিজ উপাদান রয়েছে। তাই এটি প্রাকৃতিক ক্যালসিয়ামের সম্ভাবনাময় একটি উৎস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এছাড়া মাছে ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি জিঙ্ক, আয়রন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খনিজও থাকে, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ পরিচালনায় ভূমিকা রাখে। পুষ্টিবিদদের মতে, হালকা ঝোলে রান্না করা মাছ অনেক সময় পুষ্টিগুণ ভালোভাবে ধরে রাখতে সাহায্য করে।

jago

সাবধান না হলে হতে পারে বিপদ

যদিও মাছের কাঁটায় উপকারী উপাদান রয়েছে, তবুও এটি খাওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। বড় বা শক্ত কাঁটা অসাবধানতাবশত গলায় আটকে যেতে পারে, যা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে। তাই কাঁটা চিবিয়ে খাওয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে সেটি নরম এবং ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়া যাচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

বাসি হলেই বেড়ে যায় যেসব খাবারের স্বাদ

সংরক্ষিত মাছের কাঁটা খাওয়া ঠিক নয়

বিশেষজ্ঞরা সংরক্ষিত বা দীর্ঘদিন কোল্ড স্টোরেজে রাখা মাছের কাঁটা খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেন। দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা মাছের মান কমে যেতে পারে এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হলে এতে জীবাণু বৃদ্ধির ঝুঁকিও থাকে। এতে হজমের সমস্যা বা খাদ্যজনিত অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

এছাড়া বাজারে নিম্নমানের বা রাসায়নিক দিয়ে সংরক্ষিত মাছের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাই সব সময় বিশ্বস্ত উৎস থেকে টাটকা মাছ কেনাই সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন

ডিমের কুসুমে রক্তের দাগ, খাওয়া কি নিরাপদ?

মাছের কাঁটা খাওয়া উপকারী হতে পারে, তবে সেটি অবশ্যই ছোট, নরম এবং নিরাপদভাবে চিবিয়ে খেতে হবে। ভুলবশত বড় কাঁটা গিলে ফেললে বা গলায় আটকে গেলে ঘরোয়া উপায়ে জোর করে নামানোর চেষ্টা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সূত্র: হেলথলাইন, এনডিটিভি

এসএকেওয়াই