দীর্ঘদিনের প্রস্তুতির পর অবশেষে পরীক্ষার দিন চলে আসে। আর পরীক্ষার আগের রাতটাই অনেক শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তার সময়। কেউ বারবার বই খুলে শেষ মুহূর্তের পড়া ঝালিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকেন, আবার কেউ উদ্বেগে ঠিকমতো ঘুমাতেই পারেন না। আগামীকাল এইচএসসি পরীক্ষা। তাই এই সময় নতুন কিছু শেখার চেয়ে নিজের মনকে শান্ত রাখা এবং শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন কিছু না পড়ে যা পড়েছেন সেটাই ঝালিয়ে নিন
পরীক্ষার আগের রাতে পুরো সিলেবাস শেষ করার চেষ্টা করবেন না। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় চাপ তৈরি হয়। বরং গুরুত্বপূর্ণ সূত্র, সংজ্ঞা, তারিখ, চার্ট বা নিজের তৈরি ছোট নোটগুলো একবার দেখে নিন। এতে যা শিখেছেন, তা আরও ভালোভাবে মনে থাকবে।
পর্যাপ্ত ঘুম খুব জরুরি
অনেকেই মনে করেন, সারা রাত জেগে পড়লে বেশি প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কিন্তু বাস্তবে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। একটি ভালো ঘুম পরীক্ষার হলে আপনাকে আরও সতেজ ও আত্মবিশ্বাসী রাখবে।
মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো
পরীক্ষার আগের রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটানো বা বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন নিয়ে অযথা আলোচনা করা উদ্বেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। কেউ যদি বলে, এই অধ্যায়টা পড়েছ? তখন অকারণ দুশ্চিন্তা শুরু হতে পারে। তাই ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রাখার চেষ্টা করুন।
প্রয়োজনীয় জিনিস আগে থেকেই গুছিয়ে রাখুন
প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, কলম, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, ক্যালকুলেটর (যদি প্রয়োজন হয়) এবং পানির বোতল আগের রাতেই ব্যাগে গুছিয়ে রাখুন। এতে সকালে তাড়াহুড়া বা অস্থিরতা কম হবে।
হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
রাতে খুব বেশি তেল-মসলাযুক্ত বা ভারী খাবার না খেয়ে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক পান করা এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা
পরীক্ষার আগে অনেকেরই মনে হয়,‘আমি কিছুই পারি না।’ এই ধরনের নেতিবাচক চিন্তা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। মনে রাখুন, আপনি দীর্ঘদিন ধরে এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। নিজের পরিশ্রমের ওপর বিশ্বাস রাখুন এবং ইতিবাচকভাবে ভাবুন।
হালকা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা
যদি খুব বেশি দুশ্চিন্তা হয়, তাহলে কয়েক মিনিট ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর ধীরে ধীরে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। কয়েকবার এভাবে করলে মন কিছুটা শান্ত হতে পারে এবং উদ্বেগ কম অনুভূত হতে পারে।
আরও পড়ুন
বাবা-মায়ের বয়স বাড়তে দেখলে মন খারাপ হয় কেন?
অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা না করা
বন্ধুরা কতটুকু পড়েছে বা কে কতবার রিভিশন দিয়েছে, তা নিয়ে চিন্তা না করাই ভালো। প্রত্যেকের প্রস্তুতির ধরন আলাদা। এখন নিজের প্রস্তুতির ওপর মনোযোগ দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সকালে সময় নিয়ে বের হওয়া
ঘড়ির অ্যালার্ম ঠিক করে রাখুন এবং পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার পরিকল্পনা করুন। তাড়াহুড়া না করলে মানসিক চাপও অনেক কম থাকে।
আরও পড়ুন
স্ক্রিন টাইম কমানোর ১০টি কার্যকর উপায়
পরীক্ষা জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কিন্তু এটি জীবনের শেষ নয়। তাই অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা না করে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করুন। শান্ত মন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করুন।
সব পরীক্ষার্থীর জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। আত্মবিশ্বাস রাখুন, মনোযোগ দিয়ে প্রশ্ন পড়ুন এবং সময় বুঝে উত্তর লিখুন। আশা করি, আপনার আগামীকালের এইচএসসি পরীক্ষা ভালো হবে।
সূত্র: বিবিসি, ইউনিসেফ, স্টুডেন্ট মাইন্ড
এসএকেওয়াই








