প্রতিদিনের কর্মব্যস্ততায় নিজের যত্ন নিতে ভুলে যাই সবাই। যেই আমি সবার যত্ন নিই কিন্তু নিজের বেলায়ই যত কার্পণ্য। পরিবারের সবাই ভালো থাকবে তখনই যখন আপনি ভালো থাকবেন। ভেতর থেকে সুস্থ থাকাটা যতটা জরুরি ঠিক তেমনিভাবে বাইরে থেকেও। আমাদের শরীরের যেমন ভিটামিন, মিনারেল প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন ত্বকের। তাই যতটা প্রাকৃতিকভাবে নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়া যায় ততটাই ভালো। ত্বকের এ যত্নের তালিকায় ডাবের পানির গুণাবলি অনন্য। কীভাবে ডাবের পানিতে ঘরোয়াভাবে ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন, তাই জানিয়েছেন ঘরেবাইরে পাতাতে আকাঙ্ক্ষাস গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের কর্ণধার অ্যারোমা থেরাপিস্ট জুলিয়া আজাদ।

ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভেতর থেকে কোষকে পরিষ্কার করে এবং পুষ্টি জোগায়, পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখে। অন্যদিকে ডাবের পানি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসাবে কাজ করে। ত্বক মসৃণ, আর ব্রণমুক্ত রাখতে ডাবের পানির জুড়ি নেই। এ ছাড়া ডাবের পানিতে আছে ভিটামিন সি, যা ত্বকের প্রাণশক্তি ফিরিয়ে আনে। যারা দীর্ঘসময় বাইরে থাকেন অথবা বাড়িতেই যাদের অন্দরমহলে কাটে দিনের লম্বা একটা সময়, তাদের ত্বকের সানবার্ন দূর করতে ডাবের পানি বেশ কার্যকর। এ ছাড়া বার্ধক্যের বলিরেখা কিংবা চামড়া কুঁচকে যাওয়া ভাব কমিয়ে আনতে আপনি ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন ডাবের পানি। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন মুখ ধোয়ার পর তুলা দিয়ে অল্প পরিমাণ ডাবের পানি আপনি আপনার ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এর পাশাপাশি প্যাক তৈরি করতে মুলতানি মাটি, চন্দনের গুঁড়া আর ডাবের পানি মিশিয়ে মুখে অথবা হাত-পায়ের ত্বকে ব্যবহার করলে ভেতর থেকে ময়লা বাইরের ধুলাবালি দূর করে। তাই ত্বককে পরিষ্কার রাখতে আর উজ্জ্বলতা বাড়াতে সপ্তাহে অন্তত দুবার এ প্যাকটি ব্যবহার করুন।

যারা বাইরে থাকেন দিনের পুরোটা সময় তারা ফেইস মিস্ট হিসাবে ডাবের পানি স্প্রে বোতলে করে ব্যবহার করতে পারেন। চোখের ডার্ক সার্কেল কমাতে সমপরিমাণ ডাবের পানি আর সঙ্গে সমপরিমাণ আলুর রস মিশিয়ে একটি নরম তুলার প্যাডে ভিজিয়ে চোখে দশ মিনিট রেখে ধুয়ে নিলে ভালো ফল পাওয়া যায় অল্প দিনের মধ্যেই। তবে অনেকেরই সেনসিটিভ স্কিন হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে আগে ব্যবহার করে দেখে নেওয়াই ভালো, আর যেহেতু ত্বকের বিষয় সে ক্ষেত্রে সব সময় তাজা ডাবের পানি ব্যবহার করাই ভালো। ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করলেও তা যাতে দুই বা তিন দিনের বেশি না হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।