কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ফেনী ও হবিগঞ্জের চার যুবককে অপহরণ করে কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায় অপহরণকারী চক্র। পরে পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে অপহরণকারীদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃতদের উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় নেওয়া হয়।

উদ্ধার হওয়া যুবকরা হলেন, ফেনী জেলার গণিপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলে এমাম হোসেন (১৮), একই এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে এমাম হোসেন জিসান (২৩), ফেনী জেলার রামপুর গ্রামের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে তৌহিদুল ইসলাম তামিম (১৯) এবং হবিগঞ্জ জেলার ফুটি ঝুড়ি উপজেলার বাসিন্দা জজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া প্রকাশ হোসাইন (২২)।

পুলিশ জানায়, অপহরণের সঙ্গে জড়িত রাসেল নামে এক ব্যক্তি টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা। ফেনীতে কাজ করার সুবাদে এই চার যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে কাজ দেওয়ার কথা বলে তাদের টেকনাফে ডেকে এনে পাহাড়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ২৭ জুন তাদের টেকনাফে নিয়ে আসা হয়।

ভিকটিমদের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর ফোন করে তাদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারলে ভিকটিমদের মারধরের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়। 

অপহৃত হোসাইনের মা দিল বাহার বলেন, ‘‘আমার ছেলে কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছে জানতাম না। শনিবার ফোন করে জানানো হয়, আমার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে। ছেলের সঙ্গে কথা বলার পর পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এত টাকা দিতে পারব না বললে ছেলেকে মারধর করা হয়। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় মঙ্গলবার জানতে পারি, আমার ছেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।’’ 

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ফেনী ও হবিগঞ্জ জেলার চার যুবককে কাজের কথা বলে ডেকে এনে হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী জুম্মাপাড়া পাহাড় এলাকায় জিম্মি করে রাখা হয়। 

তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে তার নেতৃত্বে উপপরিদর্শক মোর্শেদের সহযোগিতায় পুলিশের একটি দল এবং র‌্যাবের একটি টিম যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অপহরণকারীদের আস্তানা থেকে চার ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়।

ওসি আরও জানান, উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অপহরণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।