চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রায়ের পর সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
এতে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা সড়কের ৪০ কিলোমিটারে দুটি লেনে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ ছিল। যানজটে আটকা পড়ে গরমের মধ্যে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয় হাজার হাজার যাত্রীকে। তবে পুরোপুরি যানজট নিরসন হতে আরো সময় লাগবে বলে জানান হাইওয়ে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকাল ৩টা থেকে মহাসড়কের ছোটো দারোগারহাট এলাকায় তার অনুসারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। পরে বড়ো দারোগাহাট, ভাটিয়ারি ও কুমিরা এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিলে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
মিনহাজ উদ্দিন নামে এক কলেজ শিক্ষক বলেন, আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন আদালত। এজন্য উনার লোকজন মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছে। প্রায় এক ঘণ্টার মতো জ্যামে আটকে আছি। গরমে সবার অবস্থা খারাপ।’
মহিউদ্দিন নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারীদের তাণ্ডব চলছে। তীব্র গরমে যাত্রীদের নাভিশ্বাস। সড়কে নারী-শিশুদের চরম দুর্ভোগ। অবরোধকারীদের সাধারণ মানুষ অশ্রাব্য গালাগাল করছে।’
রেজাউল করিম নামে আরেক যাত্রী বলেন, ‘যানজটে আছি। এমপির অন্ধ ভক্তদের রাস্তা অবরোধে হাজারো মানুষের ভোগান্তি। আজব এক দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ।’
শহিদুল ইসলাম রয়েল নামে এক যাত্রী তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ঢাকা-চট্টগ্রামের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক অবরোধ করা হলো রাজনৈতিক ইস্যুতে। হাজার হাজার গাড়ির যাত্রী অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে। দেখার কেউ কি নেই?
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোরছালিন বলেন, ‘এ রায় মেনে নেবার মতো নয়। আসলাম চৌধুরী জনগণের ভোটে নির্বাচিত। রায়ে সীতাকুণ্ডের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন স্থানে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কিন্তু দলীয়ভাবে এখনো কোনো কর্মসূচি দেয়নি। সন্ধ্যায় মিটিংয়ে কর্মসূচি ঠিক করা হবে। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে।’
কুমিরা হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ নুরুল আবছার বলেন, ‘সড়কের বিভিন্ন অংশে ব্যারিকেডের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগতে পারে।’
এম মাঈন উদ্দিন/এএইচ/এমএস








