টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ও বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে এ সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। একই সঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে টেকনাফ সদর, পৌরসভা ও সাবরাং ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন
বান্দরবানে অতিবৃষ্টিতে আটকা কয়েকশ পর্যটক
এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাই অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আশ্রয়ের জন্য সাইক্লোন শেল্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এবং সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকেরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে মানুষকে সতর্ক ও সচেতন করতে প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউএনও বলেন, আগামী কয়েকদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদেরও সব এলাকায় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
রাঙ্গামাটি / পাহাড়ধসের শঙ্কা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে মাইকিং
এদিকে, টানা বৃষ্টিতে টেকনাফ সদর, পৌরসভা ও সাবরাং ইউনিয়নের কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও পানি বেশি জমেছে, আবার কোথাও তুলনামূলক কম।
গত পাঁচ বছরে বর্ষা মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টির ফলে সংঘটিত পাহাড়ধসে অন্তত ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে।
জাহাঙ্গীর আলম/এনএইচআর/এএসএম








