গভীর সমুদ্রে ট্রলারডুবির ৪ দিন উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে উদ্ধার হয়েছেন জেলে আলামিন। তেলের পট পেয়ে সেটি আকড়ে ধরে ভেসেছিলেন ওই জেলে। ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ভাসমান অবস্থায় বুধবার বিকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকালে আলামিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জেলে গলাচিপার গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের চান মিয়া হাওলাদারের ছেলে। উদ্ধার আলামিন বলেন, বঙ্গোপসাগরে ফিশিং ট্রলার রোববার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে ১১ জেলে নিয়ে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে তিনজন বের হতে পারেনি। আমরা ৮ জন সাগরে ভেসেছিলাম। এ সময় আমি আক্কাস ও সাগর ট্রলার ধরে ভেসেছিলাম। কিন্তু একসময় সবাই ট্রলার ছেড়ে তীরে ফেরার জন্য সাঁতার দেই। কিছু সময় পর আমরা ঢেউয়ের কারণে আলাদা হয়ে যাই। আমি একটি তেলের পট পেয়ে ভেসেছিলাম। বুধবার বিকালে ভোলার দুলাল মাঝির জেলেরা আমাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন নিয়ে আসে। এছাড়া আমার আর কিছু মনে নেই। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, উদ্ধার হওয়া জেলে আল আমিন জানিয়েছেন, সাগরে ভেসে যাওয়া অন্য ৫ জেলে হয়তো বেঁচে আছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছি।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে রোববার গলাচিপার ১১ জন জেলেসহ ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। সোমবার ৫ জেলেকে জীবিত উদ্ধার হয়। অপর ৫ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলেরা হলেন, গলাচিপার পানপট্টি ইউনিয়নের দক্ষিণ পানপট্টির হারুন হাওলাদার, পানপট্টি গ্রামের মো. এমাদুল, গজালিয়া ইউনিয়নের ইচাদী গ্রামের মো. ফোরকান, মো. সায়েম ও গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ।