আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আগামীতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বৈশ্বিকভাবে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম ফের বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে চলতি বছরে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তারা বলেছে, মূল্যস্ফীতিজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা করতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আবার নীতি সুদহার বাড়াতে শুরু করেছে। এর প্রভাবে বিশ্বব্যাপী ঋণের সুদহারও বাড়তে পারে। ফলে বৈশ্বিকভাবে ঋণ নিয়ে যেসব দেশ আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে তাদের সংকট বাড়তে পারে। বুধবার প্রকাশিত আইএমএফের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক, জুলাই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব আশঙ্কার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এর নেতিবাচক প্রভাব বৈশ্বিকভাবে বাণিজ্য ঋণ গ্রহণকারী ও জ্বালানি উপকরণ আমদানিকারক দেশগুলোর ওপরও পড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বাণিজ্য ঋণ গ্রহণ করে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করে। পাশাপাশি জ্বালানি উপকরণ আমদানিতেও বাংলাদেশ এগিয়ে। যে কারণে বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে গেলে এবং বৈশ্বিক ঋণের সুদহার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে ২০২৬ সালে জিডিপির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস এপ্রিলের তুলনায় জুলাইয়ে সামান্য কমানো হয়েছে। এপ্রিলে বলা হয়েছিল, চলতি বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার দশমিক ১ শতাংশ কমিয়ে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ শতাংশ করা হয়েছে।

বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হারও বাড়বে। গত বছর এই মূল্যস্ফীতি ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। এবার তা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে আগামী বছরে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ও মূল্যস্ফীতির হার কমবে।

এতে বলা হয়, সংঘাত অঞ্চলের বাইরে থাকা দেশগুলোতে খুব বেশি সমস্যা না হলেও তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। আর সংঘাত অঞ্চলের মধ্যে থাকা এবং এ অঞ্চল দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সম্পন্ন করা দেশগুলোকে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়তে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামীতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এটি হলে বিশ্বব্যাপী পণ্যমূল্যে অস্থিরতা ফের বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও হুমকির মুখে পড়বে। পণ্যের দাম বাড়বে। যা বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর আর্থিক ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায়ও এই চাপ আসতে পারে।